ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
এনামুল সরদার (৫৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রবিউল ইসলাম মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে আটক । ছবি: ধ্রুব নিউজ
নাতনিকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের ফারাসাতপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে রাজমিস্ত্রী এনামুল সরদার (৫৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রবিউল ইসলাম মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে আটক হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। আটক রবিউল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা ও অর্থ জোগানদাতা বলে জানা গেছে।
গত ৮ জুন (সোমবার) রাত ৯টার দিকে এনামুল সরদার স্মরণপুর জামতলা মোড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে মনিরামপুর থানার রোহিতা ইউনিয়নের স্মরণপুর বাঁশতলা তিন রাস্তার মোড়ে মতিনের দোকানের সামনে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে, চাকু মেরে, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় মনিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয় (মামলা নম্বর: ১১, তারিখ: ০৯/০৬/২০২৬, ধারা: ৩০২/৩৪ পিসি)।
উক্ত মামলায় ফারাসাতপুর গ্রামের ইমামুল সরদারের ছেলে হুসাইন (২২) ও রাকিব (২০), মফিজুর সরদারের ছেলে রাব্বি (২২), আফজাল সরদারের ছেলে চঞ্চল (৩২), আবুল সরদারের ছেলে সাকিব (২০) ও আরিফ (২৭), খায়রুল সরদারের ছেলে মেহেদী (২৫), লিটন সরদারের ছেলে সিয়াম (১৯), হাবিবুর রহমানের ছেলে ইউনুস (২৪), রফিকুলের ছেলে মিঠু (২৪), শওকত সরদারের ছেলে রবিউল (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান হাজরা বলেন, উক্ত হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড রবিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরপরই ওই রাতেই মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ৯ জুন সকাল সাড়ে ৬টার ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। অন্যদিকে ওইদিনই আসামিদের নামে মামলা রুজু হয় এবং দেশের বিমানবন্দরগুলোতে আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের সাথে যোগাযোগ করা হলে মালয়েশিয়ার পুলিশ রবিউল ইসলামকে কুয়ালালামপুরের শিলংগর, গুডিয়ার কোট ১০ ইউএসজে ১৫, ৪৭৬০০, শুভং পারডানার বিল্ডিং নম্বর এইউ ০০-০৬ এ অবস্থিত রেস্টুরেন্ট ‘আল জাজ’ থেকে ১০ জুন বেলা ১২টার সময় গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে মালয়েশিয়ার জেলখানায় আটক আছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সংবাদ পেয়েই পুলিশ অভিযান চালানো শুরু করে এবং মামলার ১ নম্বর আসামি হুসাইনকে গ্রেফতার করে। বাকি আসামিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে র্যাবের অভিযানে রাব্বি এবং রাকিব আটক হয়। আসামি হুসাইন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের সম্পৃক্ততার কথা নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে আমরা আরও কয়েকজন আসামিকে নজরদারিতে রেখেছি। খুব শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।