❒ ওসমানপুরে গরুর গাড়ি দৌড়
এম জামান
❒ কাশিমপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়া মাঠে দিনব্যাপী গরুরগাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে স্থানীয় যুবসমাজ ছবি: ধ্রুব নিউজ
'যেদিন গাড়িয়াল উজান যায়
নারীর মন মর ছুইরা রয় রে ..
ওকি গাড়িয়াল ভাই…
হাঁকাও গাড়ি তুই চিল মারির বন্দরে রে।'
না, গাড়িয়ালরা আসেনি চিলমারির বন্দরে। এসেছিল যশোরের কাশিমপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়া মাঠে। তারা রোমান্টিকতা ছড়িয়েছিল ঠিকই-তবে তা এক তীব্র প্রতিযোগিতার। আহা, কী আনন্দ! প্রতিযোগিতা শেষে কারোর হাতে উঠল ফ্রিজ, কারোর হাতে এলইডিটিভি।
মাঠের পর মাঠ জুড়ে সোনালী আমন কাটা শেষ। চারিদিকে ফাঁকা ফসলি জমি। শীতের মিঠে রোদে সেই ধূলিমাখা মাঠই যেন আজ হয়ে উঠেছিল এক উৎসবের আঙিনা। চারদিকে মানুষের কলরব, আর তার মাঝেই বাতাসের বেগে ধুলো উড়িয়ে ছুটছে জোড়া গরুসহ কাঠের গাড়ি। পেছনে কাঠের গাড়িতে সওয়ারির হাতে ধরা লাগাম। শুক্রবার যশোরের ওসমানপুর গ্রাম সাক্ষী হলো এক হারিয়ে যাওয়া রোমাঞ্চের। প্রযুক্তির ভিড়ে যেখানে গরুর গাড়ি যাদুঘরের বস্তু, সেখানে গরুর গাড়ির এই দৌড় প্রতিযোগিতা স্থানীয়দের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল কয়েক দশক আগের অতীতে।
আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়া মাঠে দিনব্যাপী এই রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতার আয়োজন করে স্থানীয় যুবসমাজ।
শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে দূর-দূরান্ত থেকে মেঠোপথ ধরে আসতে শুরু করে প্রতিযোগীরা। কেউ নড়াইল থেকে, কেউ বা আশপাশের জেলা থেকে তাদের সুসজ্জিত গরুর গাড়ি নিয়ে হাজির হন। গ্রামীণ এই উৎসবকে ঘিরে শুধু যে প্রতিযোগিতা ছিল তা নয়, মাঠের এক কোণে বসেছিল গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ, হরেক রকমের খাবারের দোকান আর ছোট শিশুদের উচ্ছ্বাসে পুরো গ্রাম যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। নারী-পুরুষ ও শিশু—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল ওসমানপুরের মাঠ।
এবারের আসরে অংশ নিয়েছিল ১৯টি তুখোড় গরুর গাড়ি। প্রতিটি গাড়ির জন্য টোকেন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০০ টাকা। গতির এই লড়াইয়ে উপস্থিত দর্শকদের করতালি আর চিৎকারে মুখরিত ছিল মাঠ। চূড়ান্ত লড়াই শেষে নড়াইল জেলার নুর মিয়ার গরুর গাড়িটি প্রথম স্থান অধিকার করে জয় করে নেয় মেগা পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ। দ্বিতীয় হয়েছেন নলডাঙ্গার এনামুল হক এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন হাগড়ার আসাদ মিয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভি। এছাড়া বিশেষ সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে চারজনকে দেওয়া হয় মোবাইল ফোন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কোরবান গাজীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাশিমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন সদর উপজেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক তাইজেল ইসলাম এবং কাশিমপুর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহিদুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, নাজমুল ও কামাল হোসেন উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের উৎসাহিত করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি হারুন-অর-রশিদ।