নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদরের নরেন্দ্রপুর গ্রামের ছামাদ দফাদারকে হত্যার অভিযোগে দুই ছেলেসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। সোমাবর মরহুম ছামাদ দফাদারের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল এ অভিযোগের ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়েছে কিনা প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন কোতয়ালি থানার ওসিকে।
মামলার আসামিরা হলো, মরহুম ছামাদ দফাদারের বড় ছেলে হায়দার আলী, আব্দুল কুদ্দুস, সিদ্দিক দফাদারের ছেলে নুর ইসলাম, হায়দার আলীর স্ত্রী রাবেয়া বেগম, ছেলে সাইদুর ও মৃত রহমান দফাদারের ছেলে আব্দুল হান্নান।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, হার্টবিলা মৌজার আরএস ১৮৬৭, ১৮৬৮ ও ১৮৭০ দাগের জমির মধ্যে ইদ্রিস আলীর ক্রয়সূত্রে ১৩ শতক জমির মালিক। ওই জমিতে তার বড় ভাই হায়দার আলীর মাছ চাষের একটি বড় পুকুর রয়েছে। ২০২০ সালে পিতা ছামাদ দফাদার ও ভাই হায়দার আলীসহ অন্যরা ইদ্রিস আলীকে প্রস্তাব দেন পুকুরের মধ্যে থাকা তার ১৩ শতক জমি হায়দার আলীকে বিনামূল্যে হেবা দলিল করে দিতে হবে। তার বিনিময়ে তাকে হার্টবিলা মৌজার আরএস ১১৪৪ দাগের ৩৯ শতক জমি তাকে লিখে দেওয়া হবে।
এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হায়দার আলীর নামে ৬৩২৭/২০২০ নম্বর হেবা ঘোষণাপত্র দলিল করে দেন ইদ্রিস আলী। পরে তার ভাই তাকে কোন জমি লিখে দেননি। এছাড়া ২০১৯ সালে তার পিতাকে ভুল বুঝিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে লিয়ে নিয়েছে তার দুই চেলে। তার পিতা দলিল বাতিলের জন্য আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি ছেলের জমি ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। এতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে নান ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
গত ১১ অক্টোবর সকালে ইদ্রিস আলী আসামিদের বাড়িতে গিয়ে জমি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন এবং পিতার মৃত্যুর কারণ জানতে চান। এ সময় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এতে তার সন্দেহ হয় আসামিরা তার পিতাকে হত্যা করে দ্রুত দাফন করেছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার পিতাকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।