Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

❒ দারাজ কর্মকর্তা সেজে ৭০% লভ্যাংশের টোপ

অনলাইনের ফাঁদে ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা খুইয়ে আদালতের দ্বারস্থ তরুণী

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন,২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
অনলাইনের ফাঁদে ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা খুইয়ে আদালতের দ্বারস্থ তরুণী

ছবি: প্রতীকী

ই-কমার্স জায়ান্ট ‘দারাজ’-এর ভুয়া কর্মকর্তা সেজে ব্যবসায়িক মূলধন বিনিয়োগের নামে ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৪ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যশোর শহরের ঘোপ জেল রোড এলাকার ইজাজুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা আক্তার মুন্নি বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাটির ডালপালা খতিয়ে দেখতে পুলিশের ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল’কে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহিন বালুজ। মামলার অভিযুক্ত দুই প্রতারক হলো— খুলনা সিটি ব্যাংকের গ্রাহক রাহাত শেখ এবং রাজশাহী সিটি ব্যাংকের গ্রাহক সোহেল রানা।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার মুন্নির সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই দুই প্রতারকের পরিচয় হয়। নিজেদের ‘দারাজ বাংলাদেশ’-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাবি করে আসামিরা মুন্নিকে প্রলুব্ধ করে বলেন, তাদের মাধ্যমে দারাজের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায় মূলধন খাটানো হলে অবিশ্বাস্য ৭০ শতাংশ হারে মুনাফা বা লভ্যাংশ পাওয়া যাবে। সরল বিশ্বাসে প্রলুব্ধ হয়ে মুন্নি বিভিন্ন সময়ে আসামিদের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) নম্বর এবং সিটি ব্যাংকের নির্দিষ্ট দুটি অ্যাকাউন্টে সর্বমোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৪ টাকা পাঠান। টাকা নেওয়ার পর বেশ কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও লভ্যাংশ বা আসলের কোনো হদিস না মেলায় মুন্নির মনে গভীর সন্দেহ জাগে। গত ৩ জুন তিনি আসামিদের ব্যবহৃত যোগাযোগের মাধ্যম ‘টেলিগ্রাম’ অ্যাকাউন্টে ফোন করে লভ্যাংশের দাবি জানালে প্রতারক চক্রটি তাকে নানা অজুহাতে ঘোরাতে থাকে। একপর্যায়ে মুনাফা তুলতে হলে আরও ১ লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাপ দেয় তারা। মুন্নি নতুন করে টাকা দিতে অস্বীকার করলে প্রতারকরা তার সাথে সব ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধের ঘোষণা দিয়ে সংযোগ কেটে দেয় এবং এরপর থেকে তাদের সমস্ত নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নামী-দামি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের লোগো বা ভুয়া পরিচিতি ব্যবহার করে ‘টাস্ক কমপ্লিশন’ বা ‘বিনিয়োগে উচ্চ মুনাফা’র ফাঁদ পেতেছে একাধিক দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্র। ঘরে বসে সহজে আয়ের লোভে পড়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা এই ডিজিটাল ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এ ধরনের জালিয়াতি থেকে বাঁচতে প্রাতিষ্ঠানিক সত্যতা যাচাই না করে অনলাইনে কাউকে টাকা না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতারণার শিকার মুন্নি জানান, জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি প্রথমে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শেই তিনি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ও টাকা উদ্ধারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল জানিয়েছে, ব্যাংকিং চ্যানেল ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করে আসামিদের শনাক্তের কাজ শুরু হয়েছে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)