ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের নারী ফুটবলে পাইপলাইন শক্তিশালী করতে এবং টেকসই ভবিষ্যতের জন্য ঢাকার বাইরে এক বড় পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। জাতীয় নারী ফুটবল দলের মূল কাণ্ডারি তৈরি করার লক্ষ্যে সিলেটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রতিভা অন্বেষণ ট্রায়াল ‘ফিউচার স্টারস’। বাফুফে সভাপতির পূর্ণ সমর্থনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলারের তত্ত্বাবধানে আগামী শনিবার ও রোববার সিলেটে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নিয়মিত ঘরোয়া লিগ না থাকার কারণে জাতীয় দলে যে শূন্যতা বা ঘাটতি তৈরি হয়, তা মেটানোই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। মূলত অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের জন্য নতুন এবং প্রতিভাবান ফুটবলার খুঁজে বের করে অনূর্ধ্ব-২০ এবং পরবর্তীতে জাতীয় দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পাইপলাইন প্রস্তুত করা হবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে।
সিলেটের এই মেগা ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী নারী ফুটবলাররা (অনূর্ধ্ব-১৭)। ট্রায়ালে ১৮ জনের দল তৈরি করে ৫০ মিনিটের ম্যাচ আয়োজন করা হবে। তবে কিশোরী ফুটবলারদের কৌশলগত উন্নতি এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা বৃদ্ধির জন্য দুটি ব্যতিক্রমী নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে:
১. সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ ছাড়া অন্য কোনো খেলা সমতায় শেষ হলে কোনো পেনাল্টি শুটআউট হবে না; তার বদলে যে দল সবচেয়ে বেশি ‘অ্যাটাকিং কর্নার’ আদায় করতে পারবে, তাদের বিজয়ী হিসেবে গণ্য করা হবে।
২. গোলরক্ষকদের হাত থেকে বল সরাসরি উঁচুতে কিক করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যাতে নিচ থেকেই পাশ খেলে ‘বিল্ড-আপ প্লে’ গড়ে তোলার অভ্যাস তৈরি হয়।
এর আগে লাইবেরিয়া ও বোতসোয়ানা জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনকালে তৃণমূল থেকে এভাবে প্রতিভা খুঁজে বের করার অভিজ্ঞতা ছিল পিটার বাটলারের। তিনি মনে করেন, ঢাকার বাইরে স্কাউটিং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এটি একটি যুগান্তকারী সূচনা। এই টেকসই প্রজেক্টটি দেশের নারী ফুটবলের ভিত্তি আরও মজবুত করবে।
টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল অন্তত দুটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। মাঠে নতুনদের স্কিল, ফার্স্ট টাচ, খেলার সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা (গেম সেন্স), শারীরিক সক্ষমতা, গতি এবং শৃঙ্খলা সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন অভিজ্ঞ স্কাউটরা। সিলেট পর্ব দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও আগামী বছরের শুরুতেই দেশের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে ৮টি দলের সমন্বয়ে এই আঞ্চলিক স্কাউটিং ছড়িয়ে দেওয়ার মহাপরিকল্পনা রয়েছে বাফুফের।