ক্রীড়া ডেস্ক
ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস ছবি: সংগৃহীত
সুদূরের ওল্ড ট্রাফোর্ডের সবুজ গালিচা থেকে রেড ডেভিলদের জার্সিতে যার স্বপ্নের শুরু, সেই ১৯ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস এখন যশোরের শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমির মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও বার্নলির যুব দলে খেলার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এই প্রবাসী ফুটবলারের লক্ষ্য একটাই—লাল-সবুজের পতাকাকে বিশ্ব ফুটবলের আঙিনায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
রোববার যশোরের শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের আবাসিক ক্যাম্পে তীব্র অনুশীলন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নিজের রোমাঞ্চ ও ভাবনার কথা প্রকাশ করেন প্রবাসী এই রাইট উইঙ্গার।

বাংলাদেশের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা জানিয়ে অ্যাডাম আব্বাস বলেন, “বাংলাদেশের হয়ে ফুটবলের মাঠে নামতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের মূল লক্ষ্য আসন্ন এএফসি এশিয়ান কাপসহ আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।” দলে কোচ এবং ফুটবলারদের পারস্পরিক চমৎকার সমঝোতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর পরিশ্রমের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারি, তবে জাতীয় দল দেশকে বড় কোনো ট্রফি বা সফলতা এনে দিতে পারবে।”
ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আসার অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে তিনি জানান, হামজা চৌধুরী ও ইয়াসিন আলফির মতো তরুণ ফুটবলারদের লাল-সবুজ জার্সিতে আলো ছড়াতে দেখেই তিনি লাল-সবুজের প্রতিনিধি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে জাতীয় দল, সহকারী কোচিং স্টাফ এবং টেকনিক্যাল টিমের নিরলস পরিশ্রমেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

ব্রিফিংয়ে দলের প্রধান কোচ জেরার্ড এমলিন জোন্স নতুন এই শিষ্যকে নিয়ে তাঁর উচ্চাশার কথা ব্যক্ত করেন। অ্যাডাম সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে কোচ বলেন, “অ্যাডাম আব্বাস অত্যন্ত পেশাদার, বিনয়ী এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহে ভরপুর একজন ফুটবলার। তাঁকে কেবল একজন উইঙ্গার নয়, বরং একজন আন্তর্জাতিক মানের কার্যকর গোলদাতা হিসেবে গড়ে তোলার বিশেষ পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”
কোচ জোন্স আরও জানান, শুধু তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিযোগিতা নয়; বরং অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলোকে সামনে রেখেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সাজানো হচ্ছে। ক্যাম্পের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে চারটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হয়েছে, যা তরুণ ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত অবস্থান ও চাপের মুখে ম্যাচ বের করে আনার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। মাঠের কন্ডিশন যাই হোক না কেন, তা মেনে নিয়ে স্ট্যামিনা ও ব্যালেন্স বজায় রেখে জয় ছিনিয়ে আনাই এখন দলের একমাত্র মন্ত্র।