বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
❒ বেনাপোলে ‘অধিকাল ভাতা’ বন্ধে ক্ষুব্ধ স্থলবন্দর কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন । ছবি: ধ্রুব নিউজ
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীন কর্মরত কর্মচারীদের প্রায় ২১ বছর ধরে চালু থাকা অতিরিক্ত সময় কাজের পারিশ্রমিক বা ‘অধিকাল ভাতা’ বন্ধ করে দেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রুত ভাতা পুনর্বহালের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরের পাশাপাশি বেনাপোল স্থলবন্দরেও কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছেন।সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেনাপোল স্থলবন্দরের রাজস্ব অফিসের নিচে ব্যানার নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কর্মচারীরা। এ সময় তারা অবিলম্বে ‘অধিকাল ভাতা’ চালুর দাবি জানিয়েছেন।
কর্মচারীরা জানান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও রাজস্ব দপ্তরের কর্মসময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তবে বেনাপোল–পেট্রাপোল আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলে সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। পাশাপাশি প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ৬টা থেকে।
এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই প্রধান দপ্তরের এক স্মারক অনুযায়ী ১ আগস্ট থেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্দর কার্যক্রম পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি কর্মচারীদের।
তারা বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা এবং জাতীয় রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে প্রতিনিয়ত সকাল ৬টা থেকে মধ্যরাত এমনকি ভোর পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এই অতিরিক্ত কাজ স্বেচ্ছামূলক নয়, অথচ এর বিপরীতে এখন কোনো ভাতা দেওয়া হচ্ছে না।
কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ১৮তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ‘অধিকাল ভাতা’ প্রদান করা হতো। দীর্ঘদিন সেই ভাতা দেওয়া হলেও গত বছরের নভেম্বর থেকে তা বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি-৩ শাখার ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বরের একটি স্মারকের কথা উল্লেখ করে সব স্থলবন্দরে অভিন্নভাবে ‘অধিকাল ভাতা’প্রদানে অসম্মতির বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে কর্মচারীরা দাবি করেন।
কর্মচারীরা আরও জানান, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও তাদের কাজ করতে হয়। করোনাকালীন লকডাউনের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা। অথচ এখন ভাতা বন্ধ থাকায় শ্রমের শোষণ হচ্ছে এবং মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর ৯৯ (১) ও ১০৮ ধারায় অতিরিক্ত কাজের জন্য অধিকাল ভাতা প্রদানের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক মৌলিক অধিকার—এ কথাও তুলে ধরেন কর্মচারীরা।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতারা বলেন, কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত মাস থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরেও ভাতা বন্ধ হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে একটি পত্র পাঠানো হয়েছে। সেখানে সরকার নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজের জন্য কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা প্রদানের আবেদন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রধান দপ্তরের বিবেচনাধীন রয়েছে।
কর্মচারীদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাতা পুনর্বহাল না হলে তাদের মনোবল ভেঙে পড়বে এবং বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মানবিক ও যৌক্তিক বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।