বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

কোল্ড ইনজুরির শঙ্কায় বীজতলা: কৃষকের কপালে ভাজ

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি,২০২৬, ০৯:২৯ এ এম
কোল্ড ইনজুরির শঙ্কায় বীজতলা: কৃষকের কপালে ভাজ

❒ শার্শার মাঠ থেকে তোলা হলদেটে বর্ণের বোরো ধানের বীজতলা। ছবি: ধ্রুব নিউজ

টানা প্রায় ১০ দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় চারাগাছ হলুদ ও লালচে রং ধারণ করেছে। বীজতলায় অনেক বীজ থেকে চারা বের হয়নি। যশোরের শার্শা উপজেলার মাঠে মাঠে এ দৃশ্য।  এতে কৃষকরা বীজতলায় কোল্ড ইনজুরির শঙ্কা করছেন। নতুন করে বীজতলা তৈরির চিন্তায় কপালে ভাজ পড়ছে তাদের।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বীজতলা রক্ষায় কৃষকেরা ছাই ছিটানো, ওষুধ প্রয়োগ ও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে জমিতে চারা রোপণের আগেই শীত ও কুয়াশায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে বীজতলা তৈরির আশঙ্কা করছেন তারা।

আবহাওয়া অফিস সূত্র মতে, পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যশোর অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়ে বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। গতকাল বুধবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সোমবার ছিল ৯ দশমিক ০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত ১০ দিনের মধ্যে পাঁচ দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি। ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯ ও ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

উপজেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর চারদিকে কুয়াশার চাদর নেমে আসছে। গত ১০ দিনের মধ্যে মাত্র দুই দিন সূর্যের দেখা মিলেছে। বাকি সময় ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় বর চাষ ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে বোরো ধানের বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরির  শঙ্কা করছেন অনেকে।

লক্ষণপুর ইউনিয়নের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, কয়েকদিনের কুয়াশায় ধানের চারা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। রাতের বেলায় পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছি। শীত আরও বাড়লে বীজতলা রক্ষা করা কঠিন হবে।

পুটখালী বারোপোতা গ্রামের কৃষক রওশন আলী জানান, তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। শীত ও কুয়াশা অব্যাহত থাকলে বীজতলা বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।

ডিহি গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, আগেভাগেই জমি প্রস্তুত করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ শীত বেড়ে যাওয়ায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এখনো চারা রোপণ করতে পারিনি।

বাগআঁচড়া গ্রামের চাষি শাহিনুর রহমান জানান, প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করি। এ বছরও জমি প্রস্তুত রয়েছে, তবে চারা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে শার্শা উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমি। এ জন্য বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৭১ হেক্টর। বর্তমানে কৃষকেরা বীজতলা প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহ বলেন, ব্রি ধান–৬৩, ৮৮, ৮৯, ১০১, ১০২, ১০৪ ও মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের চাষ হচ্ছে। কিছু এলাকায় শীত ও কুয়াশার কারণে চারার আংশিক ক্ষতি হয়েছে, তবে পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, শৈত্যপ্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, রাতে ৩–৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা এবং সকালে পানি পরিবর্তনের মাধ্যমে চারার ক্ষতি কমানো সম্ভব।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)