বেনাপোল প্রতিনিধি
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দালাল চক্রের হয়রানি বন্ধে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এক বিশাল মহড়া ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে যশোর জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল, বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আনসার সদস্যরা অংশ নেন। সম্প্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে দালাল চক্রের প্রতারণা ও মালামাল চুরির কিছু অভিযোগ আসার প্রেক্ষিতে এই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযান চলাকালীন টার্মিনাল এবং এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়। মহড়ার অংশ হিসেবে টার্মিনাল এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হয় এবং সন্দেহভাজনদের এলাকা ত্যাগে বাধ্য করা হয়। একইসঙ্গে বন্দর এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন মাইকিংয়ের মাধ্যমে যাত্রীদের সতর্ক করা হয় যাতে তারা কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে পাসপোর্ট বা ব্যাগ না দেন এবং দালালের প্রলোভনে পা না দেন। যাত্রীদের যেকোনো সমস্যায় সরাসরি বন্দর কর্মকর্তা বা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) ওবায়দুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেন। তাদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং একটি নিরাপদ ও দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের এই যৌথ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।"
মহড়ার পর থেকেই প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় এক ধরনের স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে এবং সাধারণ যাত্রীরা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, দালালের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের আকস্মিক অভিযান ও মহড়া পরিচালনা করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্দর এলাকায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে এবং সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।