বেনাপোল প্রতিনিধি
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে শুল্ক ফাঁকির এক বড় ধরনের অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সিন্থেটিক ফেব্রিক্স আমদানির ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে আনা বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের শাড়ি জব্দ করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
৫ এপ্রিল ২০২৬, রোববার বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দরের ১৯ নম্বর শেডে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন ও মুক্তা চৌধূরী। কাস্টমস ছাড়াও বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এই অভিযানে অংশ নেন।
কাস্টমস সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঢাকার ‘নুসরাত ট্রেডিং’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে এই চালানে ‘সিন্থেটিক ফেব্রিক্স অ্যান্ড লেস’ আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। চালানটির খালাসের দায়িত্বে ছিল সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘খাজা এন্টারপ্রাইজ’। ম্যানিফেস্ট অনুযায়ী পণ্যবাহী ট্রাক দুটিতে মোট ২৬০টি প্যাকেজ থাকার কথা থাকলেও তল্লাশির সময় অতিরিক্ত ৭টি প্যাকেজ পাওয়া যায়। বিস্তারিত পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘোষিত পণ্য ছিল সিন্থেটিক ফেব্রিক্স ও লেস, কিন্তু উদ্ধারকৃত অবৈধ পণ্যের মধ্যে রয়েছে মোট ৬৭৯ পিস ভারতীয় উন্নতমানের শাড়ি। এর মধ্যে ২৫০ পিস মিডিয়াম মানের এবং ৪২৯ পিস গর্জিয়াস ও প্রিমিয়াম মানের শাড়ি রয়েছে। পণ্যগুলো ভারত থেকে দুটি ট্রাকে করে আনা হয়েছিল। একটি ট্রাকে ১২৫ প্যাকেজ এবং অন্যটিতে ২৩৫ প্যাকেজ থাকার কথা থাকলেও ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য কৌশলে লুকিয়ে আনা হয়।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত প্রতি পিস শাড়ির গড় মূল্য প্রায় ৪০ ডলার। এই জাতীয় পণ্যের ওপর বাংলাদেশে ১২৯ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য। সেই হিসেবে এই একটি চালানেই প্রায় ৭৭ লাখ ৭৪ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।
১৯ নম্বর শেড ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের কোনো মিল না থাকায় এবং অতিরিক্ত পণ্য পাওয়ায় আইন অনুযায়ী তা জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি গভীর তদন্তাধীন রয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এমন শুল্ক ফাঁকির কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, সীমান্ত ও বন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আকস্মিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন রাজস্ব চুরির ঘটনা আর না ঘটে।