Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মিরপুর ও গাজীপুরে আজও পোশাকশ্রমিকরা রাস্তায়

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর,২০২৬, ১২:২৪ পিএম
মিরপুর ও গাজীপুরে আজও পোশাকশ্রমিকরা রাস্তায়

মিরপুরে শ্রমিকদের হটাতে টিয়ারেসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে আজ মঙ্গলবারও সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বিক্ষোভকালে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে গাজীপুরেও সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ করার খবর পাওয়া গেছে। ৫০টির বেশি পোশাক কারখান ছটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে পুলিশ।

শ্রমিকেরা সড়কে কাঠের আসবাব জড়ো করে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এ ঘটনায় মিরপুর-১১ নম্বর ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের পশ্চিম পাশে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছিলেন। অন্যদিকে মিরপুর-১০ নম্বর, নান্না মার্কেট এলাকার বিভিন্ন গলি ও মিরপুর-১২ নম্বরের দিক থেকে দলে দলে শ্রমিকেরা এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। একপর্যায়ে তাঁরা তিন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এ সময় শ্রমিকেরা সড়কে বেঞ্চসহ কাঠ জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেন; পাশাপাশি শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন তাঁরা।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। শনি ও রোববার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০, ১১, ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। রোববার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল সোমবারও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আজ আবার মিরপুরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন শ্রমিকেরা।

এদিকে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ করার খবর পাওয়া গেছে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরের নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকেরা। তাঁদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা গেছে। এতে মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।

শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ৫০টি তৈরি পোশাক কারখানায় আজ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে এসব কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে পারেননি।শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহানগরের নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেডের শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কের উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। পরে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে কোনাবাড়ী, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরাও কাজ বন্ধ করে সড়কে বেরিয়ে আসেন।

এর আগে গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে নাওজোড় এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন শ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশের একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মহানগরের কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।

আজ কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় আগের দিনগুলোর মতো সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।

নাওজোড় এলাকায় শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় আজও শ্রমিক আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে নাওজোড় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আছেন। তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে।

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়ি, অন্য যানবাহন এবং কারখানার গুদামেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)