❒ এনসিপি নেতানাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর বক্তব্যের প্রতিবাদ
কোটচাঁদপুর ( ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
মামলার ১ নম্বর আসামি এনসিপি নেতা তারেক রেজা। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির নেতাদের নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করায় সাবেক ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. এনামুল কবিরসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এনসিপি নেতা তারেক রেজাকে ১ নং আসামি করে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ঝিনাইদহ পৌরসভা প্রধান গেট সংলগ্ন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদের সামনে নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ওই কতুক্তিমূলক বক্তৃতা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মে ২০২৬ তারিখ জুমার নামাজ শেষে ডিসি কোর্ট জামে মসজিদের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বক্তব্য রাখছিলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট এম এ মজিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মানহানিকর ও শ্রুতিকটু ভাষায় সমালোচনা করেন।
সেখানে উপস্থিত ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. এনামুল কবির ও সাধারণ মুসল্লিরা এই ধরণের কটূক্তিপূর্ণ কথা না বলার জন্য অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা এনামুল কবিরের ওপর চড়াও হন এবং লাঠিসোঁটা, ইট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, হামলা চলাকালীন মো. এনামুল কবিরকে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন এবং ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হৃদয় হোসেন এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরাফাত রহমান ও সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদারও ধারালো অস্ত্রের কোপ ও লাঠির আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়।
অভিযোগ আরও বলা হয়, হামলাকারীদের কয়েকজন কোমরে থাকা পিস্তল বের করে গুলি করার ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এছাড়া আহতদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মুসল্লি ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর এবং দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে ঝিনাইদহ সদর থানায় এই এজাহারটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী মো. এনামুল কবির।
পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারটি খতিয়ে দেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধ্রুব/এস.আই