ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ছবি: সংগৃহীত
ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান কোনো অন্যায়, অবিচার বা চাঁদাবাজদের রাজত্ব কায়েমের জন্য হয়নি বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণ কখনোই দেশে কোনো ধরনের লুটপাট বা জুলুম-নির্যাতন মেনে নেবে না এবং অতীতে ঘটে যাওয়া প্রতিটি অপরাধের হিসাব গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত 'ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬'-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ইতিহাস ও অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, "বিগত দিনের রাজনৈতিক পরিণতি থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে। সীমান্ত অতিক্রম করার সময় একজন সাবেক বিচারপতির কলাপাতার ওপর ধরা পড়ার ঘটনা আমাদের জন্য একটি বড় বার্তা। মানুষের ওপর অন্যায়-জুলুম করা, অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া বা অন্যের হক নষ্ট করার ফল কখনো ভালো হতে পারে না। অপকর্ম করে কারো পার পাওয়ার সুযোগ নেই; সবাইকে নিজের কৃতকর্মের মুখোমুখি হতে হবে।"
দীর্ঘ ১৭ বছরে দলের ওপর নেমে আসা দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নজিরবিহীন নির্যাতন চালানো হয়েছে। এক আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস রাখা এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা আমাদের শীর্ষ ১২ জন নেতাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী জমানায় অসংখ্য নারী-পুরুষ জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। জামায়াত জনগণের আমানত রক্ষা করবে—সাধারণ মানুষের মনে এই বিশ্বাস রাতারাতি তৈরি হয়নি, এটি বহু ত্যাগের ফসল।"
সাবেক ছাত্রনেতাদের সততা ও নীতি-আদর্শের ওপর টিকে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "সব সময় হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে এবং জীবনযাপন হতে হবে নৈতিকতাভিত্তিক। দেশের উচ্চপর্যায় থেকে মাঝেমধ্যেই কিছু ভিত্তিহীন ও অবান্তর মন্তব্য করা হয়। অহেতুক বাকযুদ্ধে সময় নষ্ট করার মতো অবসর আমাদের নেই। বরং সত্যিকারের আদর্শ, চরিত্র ও কাজের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের মন জয় করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, এই মাটিতেই ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও ইসলাম কায়েম হবে।"
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই বিপ্লবে চট্টগ্রামের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য দুনিয়াবি কোনো লাভ বা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর সমাজ গঠনে ইসলামী মূল্যবোধকে পাথেয় করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের এই মিলনমেলা কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং এটি আদর্শিক অঙ্গীকার নবায়নের মঞ্চ। যেকোনো জাতীয় সংকট ও প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের সেবা করার বার্তা দেয় এই সম্মেলন।