ধ্রুব ডেস্ক
বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক ও স্তব্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে যশোর। তার চিরবিদায়ে জেলার রাজপথ থেকে শুরু করে নিভৃত পল্লী পর্যন্ত বইছে শোকের মাতম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র পুনরদ্ধারের লড়াইয়ে তিনি যেমন ছিলেন অদম্য, তেমনি যশোরের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এক মমতাময়ী অভিভাবক। এই জনপদের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর অনুপ্রেরণা মিশে আছে পরতে পরতে। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর বেদনায় ব্যথিত যশোরের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুধী সমাজ আজ অশ্রুসিক্ত নয়নে স্মরণ করছেন এই কালজয়ী নেত্রীর ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। শোকের এই আবহ যেন কেবল একটি দলের নয়, বরং পুরো জনপদের এক অপূরণীয় ক্ষতির প্রতিচ্ছবি।

বিএনপি চেয়ারপারসন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, ‘স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ইতিহাসের একটি পর্বের সমাপ্তি মাত্র। ইতিহাসের নতুন পাতা খোলা হবে। নতুন করে এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই হবে। সেই লড়াইয়ে আমাদের তরুণরা নেতৃত্ব দেবে। বেগম খালেদা জিয়ার জীবন এবং লড়াই-সংগ্রাম চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। দোয়া করি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁকে বেহেশত নসিব করুন, আমিন।"

বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, "বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আমার মা। সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।"
তিনি বলেন, "তিনি ছিলেন দেশনেত্রী, আপসহীন নেত্রী; গণতন্ত্রের মা, বাংলাদেশের মা। আজ দেশ গভীরভাবে শোকাহত এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়ে, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় অনিঃশেষ ভূমিকা রেখেছেন।"
তিনি আরও বলেন, "খালেদা জিয়া একজন মমতাময়ী মা, যিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। আজীবন লড়েছেন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে; নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। ত্যাগ ও সংগ্রামে ভাস্বর হয়েও তিনি ছিলেন পরিবারের সত্যিকারের অভিভাবক; এমন একজন আলোকবর্তিকা যাঁর অপরিসীম ভালোবাসা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়েও শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, সর্বোচ্চ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবুও যন্ত্রণা, একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও তিনি অদম্য সাহস, সহানুভূতি ও দেশপ্রেম সঞ্চার করেছিলেন পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে।"
"দেশের জন্য তিনি হারিয়েছেন স্বামী, হারিয়েছেন সন্তান। তাই এই দেশ, এই দেশের মানুষই ছিল তাঁর পরিবার, তাঁর সত্তা, তাঁর অস্তিত্ব। তিনি রেখে গেছেন জনসেবা, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।" সবার কাছে মায়ের জন্য তিনি দোয়া চেয়েছেন। তাঁর প্রতি দেশবাসীর আবেগ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধায় তিনি ও তাঁর পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, "বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্য ও নির্ভরতার প্রতীক। তাঁর আপসহীন নেতৃত্বের ফলে বিভিন্ন সময়ে দেশের সংকটময় পরিস্থিতির সফল উত্তরণ ঘটেছে। তাঁর ইন্তেকালে দেশ এক অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারালো, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি শূন্যতার সৃষ্টি করলো। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর নিরলস সংগ্রাম ও সাধনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে দিকনির্দেশনা দেবে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অনন্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"

বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেছেন, "বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। বেগম জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের মা, বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী। আমাদের জাতীয় অভিভাবক আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা অভিভাবকহীন হলাম।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক বেনজিন খান বলেন, "বেগম খালেদা জিয়া একা দাঁড়িয়ে ছিলেন রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়ন, নির্যাতন, অপমান ও অপদস্থের বিরুদ্ধে। লড়াই করে গেছেন সমস্ত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। অসীম সাহসের বাতিঘর হয়ে আর সমস্ত যন্ত্রণাকে পদদলিত করে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাংলাদেশের সমন্বিত প্রতিচ্ছবি হয়ে। তিনি ছিলেন রাজকীয় ব্যক্তিত্ব এবং জাতির অভিভাবক। তিনি সারাজীবন জনগণের জন্য, জনকল্যাণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।"

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু বলেন, "বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মহান নেত্রী।" তিনি খালেদা জিয়ার জন্য আশীর্বাদ করে বলেন, "অসীমের পথে আপনার এই মহাকালের যাত্রায় ঈশ্বর আপনাকে ক্ষমা ও মর্যাদার চাদরে জড়িয়ে রাখুক। বাংলাদেশ আপনাকে চিরদিন মনে রাখবে। বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।"

যশোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, "বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন দেশ ও জনগণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তাঁকে ভীষণ নিষ্ঠুরভাবে ফ্যাসিস্ট শাসকদের হাতে নির্যাতিত হতে হয়েছে। এ নির্যাতন এতটাই নির্মম ছিল যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর জীবন বিপন্ন অবস্থায় পড়ে যায়। দেশের জন্য তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন; তবুও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের মা।"

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তফা আমীর ফয়সাল বলেন, "বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আমাদের মা। তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অভিভাবক।"

বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম বলেন, "দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের কোটি কোটি প্রতিবাদী মানুষের কণ্ঠস্বর। রাজপথে আন্দোলন করে সম্মুখদ্বার দিয়ে প্রবেশ করে তিনি রাজনীতিতে নিজের আসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং বঞ্চিত মানুষের গণতান্ত্রিক তথা অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। শুধু তাই নয়, নীতির প্রশ্নে চিরদিন তিনি ছিলেন অবিচল। আর সে কারণেই এ দেশের মানুষ ভালোবেসে তাঁকে উপাধি দিয়েছে ‘আপসহীন নেত্রী’র।"

জেলা বিএনপি নেতা হাজী আনিছুর রহমান মুকুল বলেন, "বেগম জিয়া ছিলেন রাজনীতির অভিভাবক ও গণতন্ত্রের মা। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের জন্য বড় অনুপ্রেরণার শক্তি। তাঁর অভিভাবকসুলভ চরিত্রই তাঁকে আজীবন অমর করে রাখবে। ইতিহাসে তিনি গৌরবোজ্জ্বল স্থান দখল করে আছেন।"

যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তমাল আহমেদ ও সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা বলেন, "গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতি ছিল অগ্রগণ্য। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক, আমাদের মা।"

জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ ইমরান বলেন, "বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন। ছিলেন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের অভিভাবক। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে তিনি বিশেষভাবে অনিবার্য হয়ে উঠেছিলেন। দলটির নেতাকর্মীদের কাছেও বেগম জিয়া এক কথায় ‘সিম্বল অব ইউনিটি’। আর দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অনন্য ব্যক্তিত্ব।"
জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, "আমাদের মা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা। তিনি ছিলেন এ দেশের অভিভাবক।"
জেলা যুবদলের সদস্য ও নগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, "আমাদের মা ও অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়া দল-মত নির্বিশেষে একটি আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাঁকে বলা হতো ‘মুরব্বি’; তাঁর দিকে সবাই উপদেশের জন্য তাকিয়ে থাকত।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কর্মীরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য আপসহীন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি শুধু বিএনপি নয়, এ দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থান দেশের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।
তাঁরা বলেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে সবসময়ই আমাদের নেত্রী ছিলেন আপসহীন। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।