নিজস্ব প্রতিবেদক
আটক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪ নেতা। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর শহরের মাইকপট্টি মোড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অপরিচিত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১৬ জনকে আটক করেছে।
আটক আসামিরা হলেন—যশোরের নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া এলাকার শেখ আব্দুল হালিম ডাক্তারের ছেলে শেখ শহিদ, পুরাতন কসবা সেবাসংঘ স্কুল এলাকার আব্দুল লতিফ খানের ছেলে ইমরান হোসেন খান বাদল, শংকরপুর ছোটনের মোড় এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী, সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম মন্টুর ছেলে বিপ্লব হোসেন, ভাতুড়িয়া গ্রামের সলিমের ছেলে তানভীর, ঘোষপাড়া বিবি রোড পুলিশ লাইন টালিখোলা এলাকার মাওলানা আব্দুল কাদেরের ছেলে ও শহর যুবলীগের নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম রহমত, পুরাতন কসবা কাজীপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম রকি ওরফে সোহাগ, সদর উপজেলার উত্তর ললিতাদহ গ্রামের পচা বিশ্বাসের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সোহাগ হোসেন, পাওয়ার হাউজ বাবলাতলা এলাকার মৃত মাহবুব আলমের ছেলে তারেক আজিজ, আব্দুল জলিলের ছেলে নূর আলম, মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে শানু, ঝুমঝুমপুর এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে কামরুজ্জামান, মৃত করিম সরদারের ছেলে মকবুল হোসেন, বড়বাজার কাঁচাবাজার এলাকার কালামের ছেলে শেখ শাহাজাদা সেলিম হৃদয়, পুলিশ লাইন টালিখোলা এলাকার সুলতান মাহমুদ শেখের ছেলে সুমন শেখ এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ীর নূরপুর গ্রামের আরশাদ আহম্মেদের ছেলে ও যশোর ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা ডাক্তার সেলিম আহম্মেদ।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ১ নভেম্বর ভোর ৫টা ২০ মিনিটে দড়াটানা মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ২০০ থেকে ২২০ জন নেতাকর্মী লালদীঘিরপাড় মাইকপট্টি মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। এ সময় তাঁরা বর্তমান সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন।
খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। বিক্ষোভকারীরা জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি পালন করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সোর্সের মাধ্যমে জড়িতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, অর্থায়ন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
শেখ শহিদকে প্রধান আসামি করে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌরভ হোসেন অভি, যশোর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা তৌহিদুর রহমান সাকিল, যশোর সিটি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান উচ্ছ্বাস, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক শেখ রেজওয়ান আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে আটক করে। সোমবার বিকেলে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।