ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আয়োজনের ব্যর্থতা ও লজিস্টিক বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে ২০২৬ আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। প্রতিযোগিতা মাঠে গড়ানোর আগেই অব্যবস্থাপনার নানা অভিযোগে কাঠগড়ায় ছিল আয়োজক দেশ জাপান। এবার হকি মাঠে ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব ও সংবেদনশীল কাণ্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে ভুলবশত বাজিয়ে দেওয়া হলো তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত!
জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে পুরুষদের পুল পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশ। ম্যাচের পূর্বে নির্ধারিত নিয়ম মেনে জাতীয় সংগীতের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। ঠিক তখনই আয়োজকদের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ভুলের চরম রূপ সামনে আসে—দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংগীতের পরিবর্তে গ্যালারিতে ভেসে ওঠে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত।
এমন ঘটনায় মাঠে উপস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে মাইকে এসে ক্ষমা প্রার্থনা করেন স্টেডিয়ামের অফিসিয়াল অ্যানাউন্সার। দক্ষিণ কোরিয়ার দল ও গ্যালারির সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আমরা অত্যন্ত লজ্জিত এবং আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। রিপাবলিক অব কোরিয়ার জাতীয় সংগীতের বদলে ভুলবশত অন্য একটি গান বেজে গিয়েছিল। এই ভুলের জন্য আমরা বিনীতভাবে ক্ষমা চাচ্ছি।"
প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে দেখানোর সুযোগ থাকলেও, রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই ভুলটি অত্যন্ত গুরুতর। ১৯৫০-৫৩ সালের রক্তক্ষয়ী কোরীয় যুদ্ধের পর কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়ায় কারিগরি ও রাজনৈতিকভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে দুই কোরিয়া। চরম শত্রুতা ও তীব্র উত্তেজনার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে এই জাতীয় সংগীত বিভ্রাট দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর কূটনৈতিক সম্পর্কেও চরম স্পর্শকাতর এক পরিস্থিতির তৈরি করেছে।
অবশ্য মাঠের বাইরের এই নজিরবিহীন বিতর্ক দক্ষিণ কোরিয়া দলকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।
জাতীয় সংগীত নিয়ে এই বিশৃঙ্খলা মূলত চলতি এশিয়ান গেমসের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনারই একটি অংশ। বাজেট সংকোচনের অজুহাতে এবারই প্রথম গেমসে কোনো একক 'অ্যাথলেটস ভিলেজ' তৈরি করেনি আয়োজক কমিটি। খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছে ক্রুজ শিপ, কনটেইনার হোটেল ও সাধারণ বাণিজ্যিক হোটেলে। পর্যাপ্ত সমন্বয়ের অভাবে অ্যাথলেটরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অ্যাথলেটদের দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে; আবাসন বরাদ্দ পাওয়ার আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওয়েটিং রুমের মেঝেতে শুয়ে কাটাতে হচ্ছে অনেককে। টুর্নামেন্ট শুরুর শুরুতেই এমন সব বিতর্কে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের প্রশাসনিক সক্ষমতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।