এম জামান ও সাইফুল ইসলাম
ছবি: ধ্রুব নিউজ
সকালের স্নিগ্ধ রোদ তখন কেবল ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামীণ মেঠোপথে। মনিরামপুর উপজেলার ১০ নম্বর মশ্বিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ততক্ষণে জমায়েত হতে শুরু করেছে রঙিন পোশাকে সজ্জিত একঝাঁক তরুণ। উদ্দেশ্য—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী স্মরণ এবং মাদকমুক্ত, অপরাধহীন এক নতুন সমাজ গড়ার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। তরুণদের এই রঙিন উপস্থিতি ও উদ্দীপ্ত পদচারে মুহূর্তেই পুরো এলাকা রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে।
শুক্রবার সকালে মশ্বিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে সুসজ্জিত এক সাইকেল র্যালির মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। সুশৃঙ্খল সারিতে সাইকেলের চাকা ঘুরিয়ে তরুণদের এই শোভাযাত্রা এলাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পৌঁছায় চাকলা ফেরিঘাট বাজারে। এরপর সেখান থেকে শুরু হয় মূল আকর্ষণ—যুব ম্যারাথন। শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ক্লান্তি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এ দৌড় কাঁঠালতলা বাজারে গিয়ে সমাপ্ত হয়, যা স্থানীয়দের মাঝে দারুণ এক উৎসাহের সঞ্চার করে।
আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও জেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মনিরুল ইসলাম বলেন, "এই ম্যারাথন কেবল একটি প্রথাগত দৌড় নয়; এটি ভেঙে না পড়ে লক্ষ্য অর্জনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে বুকে ধারণ করে আগামী দিনে নতুন কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্ট মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে এ যুব সমাজই সর্বাগ্রে তা রুখে দেবে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনিরামপুর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এইচ এম শামীম তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় ও মাদকমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করে সঠিক ও নৈতিক পথে রাখতেই তাদের এই ক্রীড়া উদ্যোগ। অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সেলিম জাহাঙ্গীর কিশোর অপরাধ ও গ্যাংকালচার মুক্ত সমাজ গড়তে যুবদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মশ্বিমনগর ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে আরও অংশ নেন উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি আলী রেজা রাজু, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আনিসুর রহমান ও ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদ আলম খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সুস্থ রাজনৈতিক বিনোদন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং তরুণদের ইতিবাচক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করার এ আয়োজন স্থানীয় সুধীমহলেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।