Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

নেটওয়ার্ক নেই তাই গাছে উঠে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানো ভিডিও ভাইরাল

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন,২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
নেটওয়ার্ক নেই তাই গাছে উঠে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানো ভিডিও ভাইরাল

ছবি: সংগৃহীত

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে হাজিরা খাতার ছবি পাঠাতে গাছে উঠেছেন একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক—এমন একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছবিটি রাঙামাটির একটি বিদ্যালয়ের। ছবিতে থাকা ব্যক্তি বাঘাইছড়ি উপজেলার পাগয্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের।

ওই শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাই নেটওয়ার্ক পাওয়ার আশায় পাশের একটি গাছে ওঠেন। গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টি উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে রূপকারী ইউনিয়নে। এটি দুই পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত। পাহাড়ের নিচে ধানখেতের মাঝখানে একটি একতলা ভবনে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলে। বিদ্যালয়ে মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক পেতে প্রায়ই সমস্যা হয়।

জানতে চাইলে মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, গতকাল থেকে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইন হাজিরার কার্যক্রম চালু হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। পরে সেই তথ্য জেলা হয়ে ঢাকায় পাঠানো হবে।

জানতে চাইলে মোহাম্মদ আবু তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্কুলে এসে প্রথমে ছাদে উঠলাম, নেটওয়ার্ক পেলাম না। পরে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত আমগাছের ডালে উঠি। সেখানে নেটওয়ার্ক পেয়ে কোনোমতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরার ছবি পাঠাতে পেরেছি।’

আবু তাহের বলেন, পাহাড়ি এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় না এনে অনলাইন হাজিরার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান না হলে অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকই নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিতে পারবেন না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। গতকাল অনলাইন হাজিরার প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা বলেন, ‘যেসব এলাকায় ফোরজি নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেখানকার বিদ্যালয়গুলো অনলাইনে হাজিরা পাঠিয়েছে। নেটওয়ার্ক না থাকা বিদ্যালয়গুলো এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য দিয়েছে। ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি জেলায় মোট ৭০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে ৫৩৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি বিদ্যালয় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, ‘গাছে উঠে হাজিরা দিতে হবে—এমন কোনো নির্দেশনা কাউকে দেওয়া হয়নি। যেসব বিদ্যালয়ে নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেগুলোর তথ্য অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে। যেগুলো এসএমএসের মাধ্যমে সম্ভব, সেগুলোও গ্রহণ করা হচ্ছে। আর যেসব বিদ্যালয়ে কোনোভাবেই সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ দেখভাল করে জেলা পরিষদ। অনলাইন হাজিরা বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কই নেই, সেখানে অনলাইনে হাজিরা দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দুর্গম এলাকাগুলোকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)