সাইফুল ইসলাম
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছে শিশুরা ছবি: ধ্রুব নিউজ
একটি চিরকুটে লেখা—“আম্মু, আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই, যেন গরিব মানুষদের ফ্রিতে চিকিৎসা দিতে পারি।” কোমল হাতের এই স্বপ্নিল লেখাটি কোনো সাধারণ খাতার পাতা নয়, বরং যশোর প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসার ‘ট্যালেন্ট ফেস্ট’-এ মায়ের কাছে লেখা এক শিশুর চিঠির অংশ।
কেবল এই চিঠিই নয়, আজ মঙ্গলবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দিনভর চলে এমন হাজারো স্বপ্নের মেলবন্ধন। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা অন্বেষণ ও সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে মাদ্রাসার দিনব্যাপী এ আয়োজনের নাম দেয়া হয় ‘প্রগতি ট্যালেন্ট ফেস্ট অ্যান্ড মিনি ট্যুর’। এ আয়োজনে ৫টি ভিন্ন বিষয়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণির ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে অংশগ্রহণ করে। পুরো মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ যেন রূপ নেয় শিশুমননের এক আনন্দ উৎসবে।
শিক্ষার্থীদের বয়স ও মেধার ভিন্নতা মাথায় রেখে সাজানো হয় প্রতিযোগিতার ডালি। যেখানে শিশুরা পিকচার, লেটার ও ডিজিট আইকিউ ট্যালেন্ট টেস্ট। আরবি, বাংলা ও ইংরেজি—তিনটি মাধ্যমে "সুন্দর হাতের লেখা", "বাবা-মা কেন সেরা" বিষয়ে ৩ মিনিটের আবেগঘন বক্তৃতা, "আমার স্বপ্ন" শিরোনামে "মায়ের কাছে চিঠি লেখা" প্রতিযোগিতা ও "প্রগতি মাদরাসায় সেরা" বিষয়ে ৩ মিনিটের বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজন নিয়ে নিজেদের ভালোলাগা ও আগামীর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন, "আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এই মিনি ট্যুর এবং ফেস্ট অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। এই আয়োজনের পেছনে অধ্যক্ষ এবং শিক্ষকবৃন্দ যে কঠিন পরিশ্রম করেছেন, তার জন্য আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতায় শুধু প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থান অধিকারীদেরই নয়, বরং অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষার্থীকেই আমরা পুরস্কৃত ও উৎসাহিত করব, ইনশাআল্লাহ। আশা করি, এই আনন্দের দিনটি শিক্ষার্থীদের মনে দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।"
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল কে এম আশরাফুল ইসলাম বলেন, "শিক্ষার্থীদের এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজ শেখানো এবং তাদের আনন্দের জায়গা তৈরি করতেই চমৎকার সব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে 'মায়ের কাছে চিঠি লেখা' প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুরা তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন মায়ের কাছে তুলে ধরবে। ৫টি বিষয়ে আমাদের ৩০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে তাদের শিক্ষার পরিধি ও স্বপ্ন তৈরির জায়গাটা আরও চমৎকার হবে।"
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আলমগীর হোসেন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসার ইতিহাসে এবারই প্রথম মিনি ট্যুর এবং এমন ব্যতিক্রমী ট্যালেন্ট ফেস্টের আয়োজন করা হয়েছে। এই সুন্দর উদ্যোগের জন্য আমি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এবং সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি।"
প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের সুনিপুণ মূল্যায়ন অনুযায়ী বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে আনন্দের মাত্রা এখানেই শেষ নয়; মাদ্রাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিগগির একটি আকর্ষণীয় ‘মিনি ট্যুর’-এর আয়োজন করা হচ্ছে। আর সেই আনন্দ ভ্রমণের পথেই বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হবে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার।
দিনজুড়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিরাজ করে শিশুদের অভূতপূর্ব আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। এই ট্যালেন্ট ফেস্ট যেন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি ছিল শিশুদের মুক্তমনে ডানা মেলার এক পঙ্খীরাজ ঘোড়া।