নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: প্রতীকী
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে এক বৃদ্ধকে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্যামনগর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী রবিউল ইসলামকে (৫৫) উদ্ধার করে প্রথমে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম শ্যামনগর গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী অভিযুক্ত জহুরুল ইসলামের সঙ্গে রবিউল ইসলামের বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই সোমবার রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বিপ্রকোণা গ্রামের জুলফিকারের ছেলে অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম (৫০) পরিকল্পিতভাবে রবিউল ইসলামের ওপর হামলা চালান। এ সময় তিনি ধারালো দা দিয়ে রবিউলের বাম কাঁধ ও পিঠে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হন।
সে সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দুই পক্ষের পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষ ও তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।