❒ # কেন্দ্র সচিব-হল সুপারসহ পরীক্ষা কমিটির সকলকে অব্যাহতি, আজ যাচ্ছে বোর্ড চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে আবারো অনিয়ম হয়েছে। এবার পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে বিরত থাকা প্রধান শিক্ষকের মেয়ের উত্তরপত্র লিখে দিয়েছেন স্কুল কর্মচারী। গত ২৮ এপ্রিলের এ ঘটনা তদন্তের পর গতকাল প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন ও কর্মচারী ফাতেমা খাতুনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আদালত তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন। এছাড়াও কেন্দ্র সচিব, হলসুপারসহ পরীক্ষা কমিটির সকলকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া রোববার ওই কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম। এর আগে ভুল প্রশ্ন সরবরাহের দায়ে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ৬জনকে অব্যহতি দেয়া হয়।
গত ২৮ এপ্রিল বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ইংরেজি পরীক্ষার খাতায় লিখে দেয়ার ঘটনা ঘটলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সত্যতা নিরুপণে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন শেষে শুক্রবার(৮মে) সরেজমিন তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। ওই ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক একডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নূরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
শার্শা থানা সূত্রে জানাগেছে, বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ যার কেন্দ্র কোড নং ৫৩১, এ ২০২৬ সালের এস এস সি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেন্দ্রের ৩০১ নং কক্ষে নৈব্যাক্তিক ও রচনামূলক পরীক্ষার পরে একজন ছাত্রীর উত্তর পত্রে সহযোগিতা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন। ঘটনাটি ফাঁস হলে ৮মে সকাল ১০ টায় ওই কেন্দ্রে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে ওয়াহিদ এর উপস্থিতিতে কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রাপ্তদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। ফুটেজে দেখা যায় ২৮ এপ্রিল তারিখ বেলা ১টা ২১ মিনিটের সময় আয়া ফাতেমা খাতুন কিছু খাতা ডাকযোগে প্রেরণের জন্য নির্ধারিত নিয়মে বোর্ড বাইন্ডিং করার পর কিছু খাতা ঘাটঘাটি করেন। খাতা খোঁজার সময় কক্ষে কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ গাউসুল আজম, হল সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান, সদস্য মোঃ আব্দুস সালাম ,সদস্য মহেন্দ্রনাথ ধর উপস্থিত ছিলেন ও তাদের পরীক্ষার কাজে ব্যাস্ত দেখা যায়। ভিডিওর বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে দেখা যায়নি। এরপর ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী ফাতেমা খাতুন পরীক্ষা শেষে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শাহানার খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুনের উত্তরপত্র খাতা ভুলত্রুটি সংশোধন করে দিচ্ছেন।
প্রথমে এ বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শাহানার খাতুন অস্বীকার করেন। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। ঘটনায় জড়িত বা সহযোগিতা করলেও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ গাউসুল আজম, হল সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান, সদস্য মো আব্দুস সালাম ,সদস্য মহেন্দ্রনাথ ধর কিছুই জানেন না বলে জানান।
অডিও, ভিডিও পর্যালোচনা করে পাবলিক পরীক্ষা এক্ট ১৯৮০ এর ৮,৯,১২ ও ১৩ ধারা মোতাবেক বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ফাতেমা খাতুন অভিযুক্ত করে শার্শা থানায় ধৃত দেখান। শনিবার শার্শা থানা পুলিশ আসামিদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেবল ফৌজদারি মামলাই নয়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন জানান, বিষয়টি দেরিতে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি নিজে তদন্তের স্বার্থে এই দেরি করেছেন বলেও জনিয়েছেন তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার। বোর্ড বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরই ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ গাউসুল আজম, হল সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান, সদস্য মো. আব্দুস সালাম, সদস্য মহেন্দ্রনাথ ধরসহ পরীক্ষা কমিটির সকলকে অব্যহতি দিয়েছে। তাছাড়া রোববার কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন বোর্ড চেয়ারম্যান, প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম বলেও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান। এর আগেও ওই কেন্দ্র এবং প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন এর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ শোনাগেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও বোর্ড এর পক্ষ থেকে জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে ‘শিক্ষকতার পেশায় কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই কেন্দ্রের অন্যান্য পরীক্ষার স্বচ্ছতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ধারা মোতাবেক মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর কয়েকদিন আগে ১২ জন পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারসহ ৬ শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহত পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কেন্দ্র সচিব ও সহকারী প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন, হল সুপার ও সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন, পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও কুলবাড়িয়া বিকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এরশাদ আলী, পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও এনইউআরএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার, হরিদ্রাপেতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক মহিদুল ইসলাম, বামুনিয়া সোনাতনকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম ।