❒ ব্যবসায়ীদের তীব্র বিক্ষোভে কাজ ফেলে পালাল ঠিকাদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারের স্থলে মডেল মসজিদ স্থাপনের বিপক্ষে ব্যবসায়িরা ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের চৌগাছায় একটি ধর্মীয় মহৎ উদ্যোগ এবং হাজার হাজার মেহনতি মানুষের রুটিরুজি এখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। সরকারের প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাঁচাবাজারের আড়তদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীদের দাবি—মসজিদ হোক তা তারা মনেপ্রাণে চান, কিন্তু কয়েক হাজার পরিবারের পেটে লাথি মেরে নয়। এই সংঘাতের জেরে বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হলেও জনরোষের মুখে মালপত্র গুটিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চৌগাছা উপজেলার পাইকারি কাঁচাবাজারটি অত্র অঞ্চলের কৃষিপণ্য কেনাবেচার প্রধান কেন্দ্র। সরকারের পক্ষ থেকে এই বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি, এই নির্দিষ্ট স্থানে প্রায় ১৭২টি আড়ত রয়েছে। প্রতিদিন এখানে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয় এবং প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার পরিবারের জীবিকা সরাসরি এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা এই স্থান পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসন তাতে কর্ণপাত না করায় বুধবার উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন-এর নির্দেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সাব-সয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ সয়েল টেস্টের জন্য যন্ত্রপাতি নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ কৃষক, কুলি ও ব্যবসায়ী কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের স্লোগান আর মারমুখী অবস্থানের মুখে মাটি পরীক্ষার কাজ স্থগিত হয়ে যায়। একপর্যায়ে জনরোষের আশঙ্কায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তড়িঘড়ি করে তাঁদের মালপত্র ট্রাকে তুলে এলাকা ত্যাগ করেন।
চৌগাছা কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান অত্যন্ত আবেগের সাথে বলেন, ‘আমরা কি মুসলমান নই? আমরাও চাই চৌগাছায় একটি অত্যাধুনিক মসজিদ হোক। কিন্তু ইসলাম কি কারো জীবিকা কেড়ে নিয়ে, কাউকে পথে বসিয়ে ইবাদতখানা নির্মাণ সমর্থন করে? আমরা ইউএনও সাহেবকে বিকল্প জায়গার প্রস্তাব দিয়েছি। জোর করে আমাদের উচ্ছেদ করা হলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়বে।’
সমিতির সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, এখানে প্রতিটি আড়তদার ৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। বাজারের পাশেই নদীর ওপারে অনেক পরিত্যক্ত খাস জমি পড়ে আছে, সেখানে মসজিদ করলে কারোরই ক্ষতি হয় না। অথচ প্রশাসন অনড় অবস্থানে থেকে আমাদের পরিবারগুলোকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ হোসেন পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে বলেন, আমরা তো কাজ করতে এসেছিলাম। কিন্তু যেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত, সেখানে জনতাকে ক্ষিপ্ত করে সয়েল টেস্ট করা বা নির্মাণকাজ চালানো অসম্ভব। মানুষের জীবিকা নষ্ট করে এমন কাজ করা যায় না। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়ে ফিরে যাচ্ছি।
পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও উপজেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতার পথে হাঁটেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন এ বিষয়ে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।