নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: প্রতীকী
ইন্টারনেট টাওয়ার প্রতারক চক্রের সদস্য শেখ মহিউদ্দিন জনির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে যশোরের একটি আদালত। সোমবার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। মহিউদ্দিন জনি খুলনা বয়রা ক্রসরোড এলাকার শেখ মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, মাগুরা সদরের কাটাখালি বাজার এলাকায় কাঠ ব্যবসায়ী হারুর অর রশীদ একটি ভবন নির্মাণ করছেন। ২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে জাহিদ, সাইফুল, মারুফ ও নাসরিন তার ভবনে এসে লায়ন ইন্টারনেট টওয়ার বসানোর প্রস্তাব দেন। প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ ২০ হাজার ও জামানত হিসেবে ২০ লাখ টাকা দেয়া হবে বলে তারা জানান।
তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর হারুন অর রশীদ ও তার ভবনের মিস্ত্রী আলী মুনছুরকে সাথে নিয়ে যশোর শহরের কাজীপাড়ায় আসামিদের অফিসে আসেন এবং কাগজপত্র জমা দেন। এ সময় হারুন অর রশীদকে ৫০ লাখ টাকা হাউজ লোন করে দেয়ার প্রস্তাব দেন। আসামিদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে ব্যাংক ঋণের জামানত হিসেবে ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি নগদ ৪ লাখ ও ৬ জানুয়ারি নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা দেয়া হয়। আসামি জাহিদ তাকে জানান, লোন হয়ে গেছে ব্যাংকে জামানত হিসেবে আরও ২০ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। হারুন অর রশীদ নগদ ২০ লাখ টাকা নিয়ে আসামিদের অফিসে এসে তার হাতে দেন।
এরপর আসামি জাহিদ তাকে দড়াটানা ফুল কেনার কথা বলে সাথে নিয়ে এসে একটি চায়ের দোকানে রেখে পালিয়ে যান। জাহিদকে অনেক খোজাখুজি করে না পেয়ে অফিসে যেয়ে অফিস বন্দ দেখতে পান। এ ঘটনায় হারুন অর রশীদ ওই বছরের ১১ মার্চ ওই চারজনসহ অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পান। মামলার তদন্তকালে ঘটনার সাথে মহিউদ্দিন জনির জড়িত থাকার প্রমাণ পান তদন্তকারী কর্মকর্তা। গত ১৬ এপ্রিল রাতে সিআইডি পুলিশ থানা পুলিশের সহায়তায় ফাঁদ পেতে সাতক্ষীরা থেকে মহিউদ্দিন জনিকে আটক করে। গত ১৭ এপ্রিল আটক মহিউদ্দিন জনির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক তুষার কুমার মন্ডল। গতকাল রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক আসামির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ধ্রুব/এস.আই