নিজস্ব প্রতিবেদন
যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে একজন কর্মরত বিচারকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে করা এই আবেদনটি নিয়ে দিনভর আলোচনার পর বিকেলে তা নামঞ্জুর করা হয়। অন্যদিকে, মামলার বাদি শরিফুল আলম আগে থেকেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় আদালত চত্বর থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আল আমিন নিশ্চিত করেছেন , সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন আদালত আরজিটি পর্যালোচনার পর তা খারিজের আদেশ দেন।
সোমবার সকালে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে নালিশি মামলা করেন শহরের কাজীপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শরিফুল আলম। দুপুরে আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। কিন্তু আইনি ভিত্তি না থাকায় বিকেলেই তা খারিজ হয়ে যায়।
এদিন সকালে মামলার আবেদন জমা দিয়ে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময়ই গ্রেপ্তার হন বাদি শরিফুল আলম। পুলিশ জানায়, তিনি নিজেই একটি চেক ডিজঅনার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের দায়ের করা ওই মামলায় সম্প্রতি আদালত তাকে কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দিয়েছিলেন। সাজা হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর জানান, সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি গোপন রেখে তিনি আদালতে বিচারকের বিরুদ্ধে নালিশ করতে এসেছিলেন। পরোয়ানা থাকায় পুলিশ তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই হেফাজতে নেয়।
বাদি তার আরজিতে দাবি করেছিলেন, আইনজীবীদের আদালত বর্জন চলাকালে বিচারক তার সময়ের আবেদন না মেনে একতরফাভাবে মামলার রায় দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, সাজা থেকে বাঁচতে বা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তিনি বিচারকের বিরুদ্ধে এই মামলা করার কৌশল নিয়েছিলেন। বিকেলের আদেশে সেই আবেদন খারিজ হওয়ায় এবং বাদি গ্রেপ্তার হওয়ায় পুরো ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে।