নিজস্ব প্রতিবেদক
ফুয়েল কার্ড দেখিয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন কৃষকরা ছবি: ধ্রুব নিউজ
পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন আড়পাড়া গ্রামের কৃষক তুহিন হোসেন। প্রখর রোদে যখন সেচ দেওয়া জরুরি, তখন ড্রাম নিয়ে হাশিমপুর তেল পাম্পে গিয়ে পড়লেন বিপাকে। পাম্প থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো—বোতলে বা ড্রামে তেল দেওয়া নিষেধ, তেল নিতে হলে লাগবে ‘ফুয়েল কার্ড’। তুহিনের মতো এমন বিড়ম্বনায় পড়া যশোরের হাজারো কৃষকের মুশকিল আসান করতে এবার বিশেষ এই কার্ড চালু করেছে জেলা কৃষি বিভাগ।
চলতি মৌসুমে বোরো ও সবজি চাষে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের হয়রানি বন্ধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যশোর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকের জমির পরিমাণ ও কৃষি যন্ত্রপাতির ধরন যাচাই করে ১ থেকে ২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল বা পেট্রোল সরবরাহের নিশ্চয়তা দিচ্ছে এই কার্ড।
শেখাটি গ্রামের আরেক কৃষক গাজী মাহমুদ হাসান জানান, তিনি তার জমিতে সবজি ও অন্যান্য ফসল চাষ করেন। চাষাবাদের জন্য তিনি মিনি পাওয়ার টিলার ব্যবহার করেন। এই পাওয়ার টিলারটি চালানোর জন্য পেট্রোল বা অকটেনের প্রয়োজন হয়। তিনি যখন পেট্রোল পাম্পে ড্রাম নিয়ে তেল কিনতে যান, তখন পাম্প কর্তৃপক্ষ তাকে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা জানায় যে, ড্রামে করে তারা তেল বিক্রি করবে না। এই সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি কৃষি অফিসের দ্বারস্থ হন। কৃষি অফিস থেকে তাকে একটি ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়। এই কার্ডটি ব্যবহার করে তিনি এখন পাম্প থেকে তার প্রয়োজনীয় পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবেন।
উপশহর ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার শাহ আলম বলেন, আমাদের জন্য সহজ হয়েছে, কৃষি অফিস থেকে যারা ফুয়েল কার্ড আনছে, তাদেরই আমরা কৃষি কাজের জন্য ২ লিটার থেকে ২০ লিটার পর্যন্ত তেল দিচ্ছি।
সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপশহর ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার আবু সাদ মোহাম্মদ আরিফ জানান, বর্তমান দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। তবে কৃষকরা সামান্য বিপাকে পড়েছেন। তেল পাম্পগুলো প্রকৃত কৃষকদের চিনতে পারছেন না। যার কারণে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা কৃষকদের ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ করছি। আমাদের কাছে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা ও তাদের ব্যবহৃত কৃষি যন্ত্রপাতির তালিকা রয়েছে। কৃষি কাজে ব্যবহৃত পাওয়ার টিলার ও মিনি পাওয়ার টিলারের মতো কিছু যন্ত্র ডিজেলে চলে, আবার কিছু যন্ত্র পেট্রোল বা অকটেনে চলে। যেহেতু আমাদের কাছে কৃষকদের তালিকা রয়েছে সে অনুযায়ী আমরা কৃষকদের নির্বাচন করছি। যদি কোনো কৃষকের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকে তাহলে আমরা ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকায় গিয়ে কৃষকের আইডি কার্ড, বর্তমান ঠিকানা এবং জমির যাবতীয় তথ্য যাচাই বাছাই করে তাদের ফুয়েল কার্ড দিচ্ছি। আমরা চাই না কৃষকরা কোনো হয়রানির শিকার হোক। বর্তমান পরিস্থিতিতে বোতলে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে পাম্পে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সে কারণে আমরা ফুয়েল কার্ডে বিশেষভাবে উল্লেখ করে দিচ্ছি যে এগুলো পেট্রোল বা অকটেন চালিত। এর ফলে কৃষকরা সহজেই তেল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন।
কৃষি বিভাগ আশা করছে, এই কার্ডের ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি পাম্প থেকে ন্যায্যমূল্যে ও ঝামেলাহীনভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে পারবেন।