ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আমদানির উদ্দেশ্যে আনা পারমাণবিক জ্বালানির দ্বিতীয় চালানটি প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে জ্বালানিবাহী তিনটি লরি সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকল্প চত্বরে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পাহারায় লরিগুলোকে অত্যন্ত সুরক্ষিত উপায়ে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে সোমবার সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’-এর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি কার্গো ফ্লাইটে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। এর বাইরে প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং বা পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনে আরও দুটি চালানে ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে মোট নয়টি পৃথক চালানের মাধ্যমে এই পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে। এর প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। ফলে এই দুই ইউনিট মিলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে যুক্ত হবে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
এদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ সকল প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব পরীক্ষার বিশদ প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
বায়েরা থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া মাত্রই প্রথম ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী পর্যায় তথা ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ ধাপে প্রবেশ করবে। এই ধাপে পর্যায়ক্রমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা শেষে নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।