ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ এখন থেকে নিজেদের ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে পারবেন দেশীয় ব্যবসায়ীরা। দেশের পর্যটন ও সেবা খাতকে উৎসাহিত করতে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ করার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিংমল ও রিটেইল আউটলেটসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক কার্ড বা অন্যান্য অনুমোদিত মাধ্যমে আসা আয়ের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ রিটেনশন কোটা হিসেবে নিজেদের ফরেন কারেন্সি বা এফসি অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে পারবে, আর বাকি ৮৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় মুদ্রা টাকায় রূপান্তর করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা এক সার্কুলারে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যুকৃত ডেবিট, ক্রেডিট ও ট্রাভেল কার্ড সহ অন্যান্য বৈধ পেমেন্ট ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে অর্জিত আয়ের ওপরই কেবল এই সুবিধা কার্যকর হবে। ব্যাংকিং খাতের এডি শাখাগুলো যোগ্য মার্চেন্টদের নিজ নামে পরিচালিত এফসি অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমার সুযোগ করে দেবে। জমা রাখা এই বৈদেশিক মুদ্রা দেশের প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে আন্তর্জাতিক কার্ডের পেমেন্টসহ ব্যবসার বিভিন্ন বৈধ চলতি দায় ও বকেয়া মেটাতে ব্যবহার করা যাবে। তবে এই সুবিধা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টদের আন্তর্জাতিক কার্ডে অর্থ গ্রহণের মতো উপযুক্ত কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রিতে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং একইসঙ্গে তাদের নিজস্ব বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানোর সুযোগ তৈরি করা। খাতসংশ্লিষ্ট ও ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় মেটানোর পথ উন্মুক্ত হওয়ায় পর্যটননির্ভর ব্যবসায় নতুন গতি আসবে এবং বৈধ পথে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।