কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কোটচাঁদপুর-সাফদারপুর সড়কের ২ হাজার ৬২০ মিটার সংস্কার ও কার্পেটিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কোটচাঁদপুর-সাফদারপুর সড়কের ২ হাজার ৬২০ মিটার সংস্কার ও কার্পেটিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে নির্ধারিত শিডিউল ব্যাহত হওয়া এবং নির্মাণকাজে অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কাজের অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে এলাকার লোকজন সম্মিলিতভাবে কথা বলতে গেলে ঠিকাদার মো. শহিদুল ইসলাম কৌশলে স্থান ত্যাগ করেন। সেখানে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্য সহকারী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সড়কের কাজে অনিয়ম হচ্ছে—এমন অভিযোগ তিনি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে কাজ বন্ধের বিষয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তার নেই বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন রেজা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সভায় আছেন জানিয়ে সংযোগ কেটে দেন। পরে জানা যায়, তিনি প্রশিক্ষণের কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামিম হোসাইনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
এদিকে কাজের অনিয়ম নিয়ে অসন্তোষের খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোটচাঁদপুরের সাবেক সভাপতি ও এনসিপির ঝিনাইদহ-৩ আসনের অ্যাম্বাসেডর মো. হৃদয় আহমেদ ঘটনাস্থলে যান। তিনি অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের অর্থে নির্মিত সড়কের সঠিক মান নিশ্চিত করেই কাজ শেষ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির কারিগরি নির্দেশিকা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণে উপকরণের মান নিশ্চিতকরণ, কারিগরি পরীক্ষা ও যথাযথ তদারকির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এলাকার মানুষের দাবি—উত্থাপিত অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক মান নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মান যাচাই না করে কোনো বিল অনুমোদন না করার জোর দাবি জানান তারা।