Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

চার প্রকল্পে ১০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : শনিবার, ৩ অক্টোবর,২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
চার প্রকল্পে ১০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি: ধ্রুব নিউজ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নে গ্রামীণ পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের দুটিতে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে এবং বাকি দুটিতে কাজ না করেই ১০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান ও সাধুহাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী নাজির উদ্দীনের বিরুদ্ধে। এর আগে প্রতিবন্ধী স্কুল নির্মাণের নামে সরকারি অর্থ অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এবার ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নয়ছয় করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাধুহাটী ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা মোমিনদের বাড়ি থেকে মোস্তপুর শ্মশানঘাট পর্যন্ত মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার কাজের বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ টাকা। তবে কাজ যতটুকু করা হয়েছে, তা উপকারের চেয়ে ভোগান্তি বাড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন বলেন, “রাস্তার যে বেহাল দশা ছিল, তার সমাধান হয়নি। সামান্য মাটি ছিটিয়ে আগের মতোই দুর্ভোগে ফেলে পুরো ৩ লাখ টাকাই নিজের পকেটে পুরেছেন ইউপি চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন।”

একই চিত্র দেখা গেছে সাধুহাটী পূর্বপাড়া ঈদগাহ মাঠে। মাঠ সংস্কারে বরাদ্দ থাকলেও এখনো বড় বড় খাদ রয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয় গ্রামবাসী ইমদাদুল হক মিলন ও চাঁদ আলী। তাঁদের ভাষ্য, “মাঠ সমান করতে অন্তত আরও ১০০ গাড়ি মাটি দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।”

সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বংকিরা দাসপাড়ার এলজিইডি রাস্তা থেকে তেলবাটি মাঠ অভিমুখে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে। ৫ লাখ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মাটি ফেলে বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। উক্ত রাস্তায় কাজ করা দিনমজুর আব্দুল মালেক জানান, “আমরা প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক মিলে সর্বমোট ১৫ দিন কাজ করেছি। শ্রমিকের মজুরিসহ এখানে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকার কাজ হতে পারে। বাকি চার লাখের বেশি টাকা কোথায় গেল?” বংকিরা গ্রামের বাসিন্দা রবিন ও নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবন্ধী স্কুলের নাম ভাঙিয়ে টাকা নয়ছয় করার পর এখন কাবিখার টাকায় হাত দেওয়া হয়েছে। সরকারি টাকা অনিয়ম করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”

অভিযোগ উঠেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হোসনে আরা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাসরিন সুলতানা সরেজমিন পরিদর্শন না করেই বিল পাস করায় এই অনিয়ম সহজ হয়েছে।

সরেজমিন তদারকি ছাড়া কীভাবে বিল পাস হলো জানতে চাইলে সাবেক ইউএনও হোসনে আরা বলেন, “আমি উপজেলা পিআইও নাসরিন সুলতানার জমাদানকৃত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিলে স্বাক্ষর করেছি। সরেজমিনে গিয়ে কোনো কাজ পরিদর্শন করার সুযোগ আমার হয়নি।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাধুহাটী ইউপি চেয়ারম্যান ও সাধুহাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী নাজির উদ্দীন জানান, মাটির কাজ ঠিকমতোই হয়েছে। কাজের অনেক দিন পার হওয়ায় বর্তমানে এমনটি দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে সরেজমিন পরিদর্শনের ফাইল আটকে না রেখে কেবল টেবিল-রিপোর্টের ভিত্তিতে ফাইনাল বিল ছাড় দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সুশীল সমাজে। অনিয়মের অভিযোগ ওঠা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন, সাবেক ইউএনও হোসনে আরা এবং উপজেলা পিআইও নাসরিন সুলতানাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)