Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

যশোরের ছাতিয়ানতলায় দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো তাজমিন

ধ্রুব নিউজ ডেস্ক ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
যশোরের ছাতিয়ানতলায় দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো তাজমিন

যশোরের ছাতিয়ানতলা গ্রামের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয় তাজমিনকে ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ের ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) নিথর দেহ দাফন করা হয়েছে যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে। শুক্রবার সকাল ১১টায় পারিবারিক কবরস্থানে দাদার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় মা-বাবার একমাত্র সন্তানকে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী চারপাশ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে স্তব্ধ পরিবার এখন শুধুই চাইছে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন ও বিচার।

​পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তাজমিন। তবে পরিবারের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখলেও পুলিশ জানতে পেরেছে, সে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার গিয়েছিল। গত বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে।

​সেখান থেকে সে কীভাবে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ধানখেতে পৌঁছাল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে জগতপুরের একটি ধানখেত থেকে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

​কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলের চার থেকে পাঁচটি ধানখেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে। আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল তাজমিন।

​তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম, যিনি কুমিল্লা শহরের একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত, জানান— বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে তাজমিন তাকে মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে মেসেজ দেখে লাইভ লোকেশনে গিয়ে তিনি মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য দেখতে পান।

​অন্যদিকে তাজমিনের মা কেয়া খাতুন মৃত্যুর পেছনে ওই তথাকথিত বান্ধবীর ভূমিকা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষ আলাপে তাজমিন তাকে জানিয়েছিল সে বান্ধবীর বাড়িতে আছে এবং তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বান্ধবীর পরিচয় জানতে চাইলে সে তা প্রকাশ করেনি। স্বজনদের দাবি, ওই বান্ধবীকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঘটনার মূল জট খুলবে।

​ঘটনার পর নিহত তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

​তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে সুমন নামের এক অটোরিকশাচালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

​একমাত্র সন্তান ও মেধাবী শিক্ষার্থী তাজমিনের এই মর্মান্তিক পরিণতির পেছনের প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)