ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৪০ দিনের বিচ্ছেদ আর কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনি পেরিয়ে অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটল। বৃহস্পতিবার ভোরে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ফটকগুলো যখন খুলে দেওয়া হলো, তখন চারদিকে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর প্রথম দিনের ফজর বা সকালের নামাজে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৩,০০০ মুসল্লি। অন্ধকার থাকতেই ফিলিস্তিনিরা দলে দলে প্রিয় মসজিদের প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে যায়। স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের খাদেমদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে—কেউ চত্বর পরিষ্কার করছেন, কেউ বা মুসল্লিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য আবেগে আপ্লুত হয়ে অপেক্ষা করছেন।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জেরুজালেমের ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি—সকল ধর্মের মানুষের উপাসনালয়ে প্রবেশ হয় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল এবং নামমাত্র গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল। এমনকি এ বছর আল-আকসায় ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, যা ১৯৬৭ সালের পর প্রথম। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবগুলোও ম্লান হয়ে গিয়েছিল।
ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, “হোম ফ্রন্ট কমান্ডের” নতুন নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে নিরাপত্তা শিথিল করা হয়েছে। বরং পুরনো শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে পবিত্র স্থানগুলোর প্রতিটি মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে শত শত পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী। অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের ইস্টার উদযাপনের ঠিক আগেই এই ঘোষণাটি আসায় জেরুজালেমের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এ পর্যন্ত ১,১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ভিটেমাটি থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ১০,০০০ মানুষ।
জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়তো সাময়িক স্বস্তি দিচ্ছে, কিন্তু গাজা ও পশ্চিম তীরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো সুদূরপরাহত। সূত্র: আল-জাজিরা
ধ্রুব/এস.আই