বিশেষ প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসহ সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ইতোমধ্যে যশোর বোর্ডের আওতাধীন ১০ জেলায় পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন প্রবর্তিত ‘পাবলিক পরীক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬’ কঠোরভাবে অনুসরণের মাধ্যমে এবার অত্যন্ত সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বোর্ডের আওতাধীন ১০ জেলায় ২৯৯টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মোট ২ হাজার ৫৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬৬ হাজার ৯২৮ জন এবং ছাত্রী ৬৮ হাজার ১৬১ জন। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ১ হাজার ১৮৩ জন বেশি। বিজ্ঞান বিভাগে ৩৯ হাজার ৪২৬ জন, মানবিকে ৮২ হাজার ৪১১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৩ হাজার ২৫২ জন। নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন, অনিয়মিত ২৫ হাজার ৬৭৮ জন এবং জিপিএ উন্নয়নের জন্য লড়বে ১৪৫ জন। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী যশোর জেলায় (২১ হাজার ৯৫৭ জন) এবং সবচেয়ে কম নড়াইলে (৬ হাজার ৬২ জন)।
বাগেরহাটের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ফুলহাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬১ জন শিক্ষার্থীর জন্য পার্শ্ববর্তী ফুলহাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি বিশেষ ভেন্যু কেন্দ্র বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া বোর্ড কর্তৃপক্ষ ৫টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো— খুলনার রাড়ুলি ও হরিশচন্দ্র কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরার দর্গাপুর ও চাম্পাফুল এবং ঝিনাইদহের সাফদারপুর ও হাটগোপালপুর কেন্দ্র।
এ বছর বোর্ড ১৯টি পুরনো ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করে নতুন ১৯টি কেন্দ্র যুক্ত করেছে। নতুন যুক্ত হওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যশোরের শার্শার মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয় এবং অভয়নগরের নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ খুলনা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই নতুন কেন্দ্রগুলো থেকে ১০২টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে ইতোমধ্যে অন্তত ১৮টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন জানান, “আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও দুর্নামমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য বদ্ধপরিকর। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মানসম্মত ও স্বচ্ছ পরীক্ষা আয়োজনে আমরা দিনরাত কাজ করছি। ১৩ এপ্রিল খুলনা বিভাগে কেন্দ্র সচিবদের সাথে এ বিষয়ে বিশেষ মতবিনিময়ও করা হয়েছে।”
২০ মে লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে এবং ১৮ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর অনলাইনে সাবমিট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।