বেনাপোল প্রতিনিধি
❒ বেনাপোলে জব্দকৃত ইলিশ মাছ। ছবি: ধ্রুব নিউজ
বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ মাছের একটি চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সাদা মাছের চালানের আড়ালে ঘোষণা-বহির্ভূত প্রায় সাড় তিন টন ইলিশ আমদানির চেষ্টা করা হয় বলে কাস্টমস সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চালানটি জব্দ করা হয়। কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত দুটি ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা (ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন) চালানো হয়।
নথিপত্র অনুযায়ী, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'সুইট ফিস' হিসেবে বোয়াল, ফলি ও বাঘাইড় মাছের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায়, মোট ২২৫টি প্যাকেজের মধ্যে ৫৪টিতে রয়েছে ভারতীয় ইলিশ। জব্দকৃত ৩ হাজার ১৫৮ কেজি ইলিশের বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের মিল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ইলিশ মাছগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং পচনশীল অন্যান্য মাছ খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, 'জান্নাত এন্টারপ্রাইজ' নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই মিথ্যা ঘোষণায় মাছগুলো আমদানি করে। এর রপ্তানিকারক ছিল ভারতের 'আর জে ইন্টারন্যাশনাল'। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট 'লিংক ইন্টারন্যাশনাল', যার স্বত্বাধিকারী শান্ত। অভিযোগ উঠেছে, উচ্চমূল্যের এই পণ্যটি কম শুল্কে ছাড়িয়ে নিতে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট যোগসাজশ করে এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক শাহদত হোসেন জানান, বিজিবি ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই বড় জালিয়াতি ধরা পড়েছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ‘পণ্য বর্ণনায় স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদি কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক ফাঁকির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বেনাপোল কাস্টম হাউসে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
জব্দকৃত ইলিশ মাছ বর্তমানে বন্দর হেফাজতে রয়েছে। বুধবার রাতেই প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে এগুলো বিক্রি করা হবে বলে বন্দরে মাইকিং করা হয়েছে।