ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে ঐতিহাসিক 'রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার' গুঁড়িয়ে দেওয়া ও লুটপাটের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক আদেশে তাকে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনায় ওই ওসির স্পষ্ট দায়িত্বে অবহেলা ছিল। সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দেন, চাঁদাবাজি, জমি দখল কিংবা যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের নিম্ন আয়ের মানুষ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান 'রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার'। গত ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাতে ২০০ থেকে ২৫০ জনের একদল দুর্বৃত্ত প্রতিষ্ঠানটিতে নারকীয় হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নৈশপ্রহরীকে মারধর করে বেঁধে ফেলে।
পরবর্তীতে এক্সক্যাভেটর (ভেকু), হ্যামার ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পাকা ও সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই সাথে দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, ফ্রিজ, এসি ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় পুলিশকে দ্রুত খবর দেওয়া হলেও তারা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে ও স্থাপনা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় এক নেতাসহ আড়াইশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে ডিএমপির দারুস সালাম অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই তদন্তের পরই শাহ আলী থানার ওসির বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।