ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত পূর্বনির্ধারিত একটি প্রতিনিধি সভায় হঠাৎ করেই গতকাল শনিবার বিকেলে অভিযান চালায় পুলিশ। ভবনটি ঘেরাও করে প্রায় ২৯০ জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁদের একটি বড় অংশকে ছেড়ে দেওয়া হলেও দলের আরও ২৬ জন নেতা-কর্মী এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাসদ। দলটির পক্ষ থেকে আটক সবাইকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
গতকাল শনিবার বেলা ৩টার দিকে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভা চলাকালে এ পুলিশি অভিযানের সূচনা হয়। এতে দলটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এমনকি উপস্থিত সাংবাদিকরাও আটক হন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাকিবুল আলম ভূঁইয়া জানান, কার্যালয়টি থেকে মোট ২৮৯ জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। তাঁদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে যাঁরা মূল জাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং অন্যদের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আটক হওয়াদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকে আজ রবিবার ভোরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি আটক ব্যক্তিদের এখনো আদালতে উত্থাপন করা হয়নি।
অভিযানের পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সেখানে একত্রিত হয়ে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিচ্ছিলেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তারা কার্যালয়টিতে তল্লাশি চালায়।
অন্যদিকে, জাসদ পুলিশের এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে। আজ রোববার সকালে এক বিবৃতিতে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্পষ্ট করেন, এটি কোনো গোপনে পরিচালিত বা নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম ছিল না। ডিএমপি কমিশনার, মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগে থেকেই আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও তথ্য প্রদান করেই তাদের নিবন্ধিত ও বৈধ দলের প্রায় ৫০০ জন নেতা-কর্মীকে নিয়ে এই প্রতিনিধি সভা আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে কোনো বহিরাগত বা অন্য রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি ছিল না।
জাসদ আরও অভিযোগ করেছে, তাদের এই শান্তিপূর্ণ সাংগঠনিক কার্যক্রম চলাকালে পুলিশের প্রচ্ছন্ন উপস্থিতি ও সহযোগিতায় যুবদলের প্রায় পাঁচ শতাধিক সদস্য কার্যালয়ে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা ও মব সৃষ্টি করে। তারা জাসদের উপস্থিত সাধারণ ও নারী কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আঘাত করে। জাসদের দাবি, এ ধরণের হাঙ্গামা ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জাসদের সভায় আওয়ামী লীগের উপস্থিতির অসত্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জাসদ অনতিবিলম্বে আটক থাকা বাকি ২৬ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর নি শর্ত মুক্তি দাবি করেছে।