Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

❒ যশোরে পারিবারিক কলহের চরম পরিণতি

শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে পুত্রবধূ

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল,২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
আপডেট : বুধবার, ২২ এপ্রিল,২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে পুত্রবধূ

পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। পাশে আটক মরিয়ম বেগম ছবি: ধ্রুব নিউজ

যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় তুচ্ছ বকাঝকাকে কেন্দ্র করে শাশুড়িকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে পুত্রবধূ। এই ঘটনায় ঘাতক পুত্রবধূকে আটকের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব।

নিহত সকিনা বেগম (৫৫) শহরের বেজপাড়া এলাকার লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী। গত ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল ইসলাম কাজ শেষে বাড়ি ফিরলে তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান , বাড়িতে রান্না হয়নি। শহিদুলকে বাইরে থেকে খেয়ে নিতে বলে মরিয়ম দাবি করেন, তার শাশুড়ি ধর্মীয় তালিমে গেছেন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত মা বাড়ি না ফেরায় শহিদুলের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।

স্ত্রীর অসংলগ্ন কথাবার্তায় আতঙ্কিত হয়ে শহিদুল রাতেই কোতোয়ালি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নিজের বাড়ির সামনেই একটি সন্দেহভাজন বস্তা পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন তিনি। বস্তাটি খুলতেই বেরিয়ে আসে তার মায়ের নিথর ও রক্তাক্ত দেহ। পরে শহিদুল ও তার বোন লাশটি তাদের মা সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্তে নামে। মরিয়ম বেগমের আচরণ ও বয়ান ছিল অসংলগ্ন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ডিবি কার্যালয়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং নিজের হাতে শাশুড়িকে জবাই করার কথা স্বীকার করেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি আর শাশুড়ির সাথে নিত্যদিনের ঝগড়া তাকে মানসিকভাবে বিষিয়ে তুলেছিল। ঘটনার দিন পুনরায় শাশুড়ির বকাঝকা সহ্য করতে না পেরে তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ঘরের কোণে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে তিনি শাশুড়িকে আক্রমণ করেন এবং নৃশংসভাবে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। অপরাধ আড়াল করতে তিনি নিজেই লাশটি বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে ফেলে আসেন এবং রক্তমাখা চাপাতিটি ঘরের ভেতরের ওয়্যারড্রবে লুকিয়ে স্বাভাবিক অভিনয় করতে থাকেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মরিয়মের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেই রক্তমাখা চাপাতি। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় , সহনশীলতার অভাব একটি পরিবারকে কীভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। শহিদুল ইসলাম এখন এমন এক দোটানায়, যেখানে বিচার চাইছেন নিজের মায়ের হত্যার, আর আসামি তারই অনাগত সন্তানের মা ও জীবনসঙ্গিনী। একটি মুহূর্তের ক্রোধ কেবল একটি পুরুষকে করে দিয়েছে মাতৃহারা ও ছন্নছাড়া।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)