নিজস্ব প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে হাতে লেখা চিঠির আবেগ, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চিঠি লেখার আগ্রহ বাড়াতে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী চিঠি উৎসব।
শুক্রবার যশোর ডাক বিভাগের উদ্যোগে র্যালির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে চিঠি উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসব উপলক্ষে ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে সাজানো হয় বিশেষ স্টল। সেখানে শিক্ষার্থীরা চিঠি লেখার পাশাপাশি ডাকসেবা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
উৎসবের স্টলে দেখা যায়, কলম হাতে মনোযোগ দিয়ে চিঠি লিখছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ বাবা-মায়ের কাছে, কেউ প্রিয় বন্ধু কিংবা কাছের মানুষের উদ্দেশে লিখছেন মনের কথা। স্টল থেকে রহমান মুনসারী, রেবেকা সুলতানা ও পরশ হালদার তাঁদের পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের উদ্দেশে চিঠি লিখে ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য জমা দেন।
এবারের বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’।ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব সেবা হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।
যবিপ্রবিতে চিঠি উৎসবের উদ্বোধন করেন খুলনা অঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল কবির আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন, খুলনা বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মিরাজুল হক, যশোর বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল হাসানুজ্জামান এবং পোস্টমাস্টার জুবায়ের সাব্বির।
এর আগে সকালে যশোরে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নেন ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল হাসানুজ্জামান, পোস্টমাস্টার জুবায়ের সাব্বির, ডাক জীবন বীমা যশোরের এজিএম আতিকারুল ইসলামসহ ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করছে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি লেখার উৎসব, ডাকটিকিট প্রদর্শনী ও ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। যশোরের চিঠি উৎসবও এ কর্মসূচির অংশ।
উল্লেখ্য, ১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্নে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণে ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ইউপিইউর কংগ্রেসে ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
ডিজিটাল যোগাযোগের প্রসারে চিঠি আদান-প্রদান কমে গেলেও পার্সেল পরিবহন, পণ্য সরবরাহ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের গুরুত্ব এখনো রয়েছে। এ কারণে ই-কমার্স ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পার্সেল অনুসরণ, গ্রাহকের কাছ থেকে পার্সেল সংগ্রহ এবং নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে ডাক বিভাগ।
পাশাপাশি পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহে ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন, কৃষিপণ্য ও মৌসুমি ফল পরিবহন এবং উদ্যোক্তাভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ডাকসেবার পরিধি আরও বাড়বে এবং গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।