ধ্রুব ডেস্ক
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় জামায়াত ইসলামী ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের চকবাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে চরফ্যাশন থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান।
এ ঘটনায় আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দাবি, তারা গণসংযোগ শেষে চকবাজারে জামায়াত কর্মী জামালের ওষুধের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় তিন বিএনপি কর্মী এসে জামালকে গালিগালাজ করে এবং গণসংযোগে যেতে নিষেধ করে। কারণ জানতে চাইলে জামালকে মারধর করা হয়।
এতে তিনি বুকে-পিঠে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। জামালকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতাল নিতে চাইলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা গিয়ে তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসার সময় চকবাজারে বিএনপি নেতাকর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সসহ নেতাকর্মীদের উপর আবার হামলা করে বলে দাবি করা হয়।
হাসপাতালে আহত কর্মীদের দেখতে এসে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন, মনপুরা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল বলেন, “আমরা এই পৈশাচিক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনায় জড়িত বিএনপির কর্মীদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা নির্বাচনি প্রচারে বাঁধা ও বিঘ্ন ঘটাতে চায় প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দীন বলেন, “জামায়াত কর্মীদের উপর হামলার পর, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে প্রশাসনের সামনে দ্বিতীয় দফা হামলার ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। আমি হামলার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে চরফ্যাশন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সোহেল বলেন, “জামায়াত গণসংযোগের সময় আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। তাদের হামলায় আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।”
এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নৌবাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে।
চরফ্যাশন থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, “এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”