নিজস্ব প্রতিবেদক
অভয়নগরের ঠান্ডা ভোলা। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের অভয়নগরে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে আলোচনায় এসেছে বিশালাকৃতির একটি ষাঁড়। নাম ‘ঠান্ডা ভোলা’। শান্ত স্বভাব, বিশাল আকৃতি ও ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন গরুটি দেখতে।
অভয়নগর উপজেলার ফুলেরগাতি গ্রামের প্রান্তিক খামারি ঝর্ণা রায়ের বাড়িতে থাকা ৪৫ মণ ওজনের ষাঁড় ‘ঠান্ডা ভোলা’ এখন স্থানীয়দের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কেউ সামনে গিয়ে আদর করে ‘দাদা ভাই’ বলে ডাকলেই লেজ নাড়িয়ে সাড়া দেয় গরুটি। আবার ‘দাঁত দেখাও’ বললে মুখ হা করে দাঁতও দেখায় সে। বিশাল আকৃতির হলেও স্বভাব অত্যন্ত শান্ত হওয়ায় এর নাম রাখা হয়েছে ‘ঠান্ডা ভোলা’।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। খামারি ঝর্ণা রায় বলেছেন, ‘দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো করে ঠান্ডা ভোলাকে বড় করেছি। ছোটবেলা থেকেই ওর স্বভাব শান্ত, তাই ভালোবেসে নাম রেখেছি ঠান্ডা ভোলা।’
তার দাবি, দেশি ও প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা এই গরুটিই খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় গরু। প্রতিদিন এর পেছনে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ হয়। নিজের মেশিনে ভাঙানো ভুট্টা, গম, সয়াবিন, সরষের খৈল, বুটের ডাল ও ভুষির মিশ্রণে তৈরি খাবারই গরুটির প্রধান খাদ্য।
ঝর্ণা রায়ের ছেলে প্রসেনজিত রায় বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে লালন-পালন করা শীর্ষ পাঁচটি বড় গরুর তালিকায় ঠান্ডা ভোলা অন্যতম। ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে পূরণ হবে আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।’
স্থানীয়রা বলছেন, কোরবানির হাটে এত বড় অথচ শান্ত প্রকৃতির গরু সচরাচর দেখা যায় না। প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা এই ষাঁড় ন্যায্য দামে বিক্রি হবে, এমনটাই প্রত্যাশাই সবার।
ধ্রুব/এস.আই