ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: ধ্রুব গ্রাফিক্স
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে স্পেন ও ফ্রান্সের। তবে সম্ভাব্য সেই মহাদ্বৈরথের আগেই জমে উঠেছে মাঠের বাইরের কথার লড়াই। বার্সেলোনার দুই ক্লাব সতীর্থ লামিন ইয়ামাল ও জুলস কুন্দের মধ্যে শুরু হয়েছে এই স্নায়ুযুদ্ধ। 'স্পেনের চেয়ে ফ্রান্স ভালো দল নয়'— স্প্যানিশ সেনসেশন ইয়ামালের এমন মন্তব্যের পর কড়া জবাব দিয়েছেন ফরাসি ডিফেন্ডার কুন্দে।
এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ফ্রান্স ও স্পেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলেদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এখন পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য ফরাসিরা। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে নিজেদের সেরা ছন্দে না থাকলেও ধীরে ধীরে স্বরূপে ফিরছে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে স্প্যানিশরা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম 'এল পার্তিদাজো দে কোপে'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল ফরাসিদের অহংকারে আঘাত করে বসেন। ফ্রান্স স্পেনের চেয়ে এগিয়ে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর থেকে তারা আমাদের হারাতে পারেনি। তাহলে ওরা আমাদের চেয়ে ভালো হয় কী করে?"
ক্লাব সতীর্থের এমন মন্তব্যের জবাব দিতে ছাড়েননি কুন্দে। সম্ভাব্য সেমি-ফাইনালে দেখা হলে ইয়ামালকে আটকানোর মূল দায়িত্বটা এই ফরাসি ডিফেন্ডারের কাঁধেই থাকবে। কড়া বার্তায় তিনি বলেন, "স্পেনের বিপক্ষে আমাদের শেষ কয়েকটি ম্যাচ খুব একটা ভালো যায়নি। তবে ওর (ইয়ামালের) এই মন্তব্যটা আমরা মনে রাখব, অন্তত আমি তো রাখবই।"
তবে সতীর্থের প্রতি সম্মানও বজায় রেখেছেন তিনি। ইয়ামালের প্রশংসা করে কুন্দে আরও যোগ করেন, "আমি জানি সে অসাধারণ একজন ফুটবলার, অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং নিজের মনের কথা অকপটে বলতে পছন্দ করে।" এছাড়া টুর্নামেন্টে দলের 'ফেভারিট' তকমা নিয়ে কোনো বাড়তি চাপ নিচ্ছেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন এই তারকা।
অবশ্য প্রথম মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই অনুশীলনের সময় নিজের কথার সুর কিছুটা নরম করেন ইয়ামাল। ফরাসিদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "গ্রুপ পর্বের খেলা দিয়ে সবকিছু প্রমাণ হয় না। জার্মানির দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়। ফ্রান্স অত্যন্ত উঁচু মানের ফুটবল খেলছে এবং তাদের স্কোয়াডে দারুণ সব খেলোয়াড় রয়েছে। তবে আমার মনে হয় না, তারা বাকিদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে। এই টুর্নামেন্টে কোনো দলই কারও চেয়ে খুব বেশি এগিয়ে বা পিছিয়ে নেই।"
সব মিলিয়ে, শেষ চারে স্পেন ও ফ্রান্সের দেখা হলে মাঠের লড়াইটা যে কতটা রোমাঞ্চকর হবে, তা এই কথার লড়াই থেকেই বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।