Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

একটি ‘অপরিচিত’ রিকোয়েস্ট থেকে শুরু, তারপর...

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুলাই,২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
আপডেট : শনিবার, ৪ জুলাই,২০২৬, ১০:১৮ পিএম
একটি ‘অপরিচিত’ রিকোয়েস্ট থেকে শুরু, তারপর...

পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণাকারী বিল্লাল ছবি: ধ্রুব নিউজ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ‘অপরিচিত’ রিকোয়েস্ট থেকে গল্পের শুরু। এরপর নিয়মিত ফোনালাপ, মন দেওয়া-নেওয়া এবং একপর্যায়ে তা রূপ নেয় গভীর প্রেমে। কিন্তু প্রবাসীর স্ত্রী ভাবতেও পারেননি, পুলিশ পরিচয়ের আড়ালে পরম যত্নে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কের অপর পিঠেই অপেক্ষা করছে এক চরম সর্বনাশ!

অবশেষে পুলিশ অফিসার পরিচয়ে এক নারীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়া সেই  প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে যশোর জেলা পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের বকুলতলার মোড়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে তাকে খাঁচাবন্দি করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া এই প্রতারকের নাম বিল্লাল হোসেন। সে বাঘারপাড়া উপজেলার জয়নগর গ্রামের খোদাবক্স সরদারের ছেলে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়ি মনিরামপুর উপজেলার ভরতপুর গ্রামে। স্বামী প্রবাসী হওয়ায় তিনি বর্তমানে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বসবাস করেন। প্রায় আট-নয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিল্লালের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয়। ধীরে ধীরে সেই আলাপ রূপ নেয় গভীর প্রণয়ে।

একপর্যায়ে বিল্লাল বিয়ের প্রস্তাব দিলে ওই নারী প্রথমে রাজি হননি। কিন্তু শিকার হাতছাড়া করতে রাজি ছিল না ধুরন্ধর বিল্লাল। বিশ্বাস অর্জন করতে সে শংকরপুরের বাড়িতে এসে নিজেকে পুলিশের বড় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। এখানেই শেষ নয়, নিজের 'ভুয়া' পুলিশি ক্ষমতার জাঁকজমক দেখাতে ওই নারীকে সে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিস ঘুরে দেখায়। পুলিশের নিখুঁত অভিনয়ে শেষ পর্যন্ত বিভ্রান্ত হন ওই নারী।

একবার বিশ্বাস অর্জনের পর শুরু হয় বিল্লালের আসল খেলা। বিয়ের টোপ গিলে ফেলার পর নানা কৌশলে ও অজুহাতে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের (২০২৬) ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় ওই নারীর কাছ থেকে মোট ৩০ লাখ টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয় সে।

স্বার্থ সিদ্ধি হতেই খসে পড়ে প্রেমের মুখোশ। বিপুল পরিমাণ অর্থ আর গয়না পকেটে পুরেই ওই নারীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে বেপাত্তা হয়ে যায় বিল্লাল। চারপাশ অন্ধকার দেখে ধোঁকা খাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন ভুক্তভোগী নারী।

কোনো উপায় না দেখে নিরুপায় ওই নারী কোতোয়ালি থানার দ্বারস্থ হয়ে একটি মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগ পেয়েই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শুরু হয় ছায়াতদন্ত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং কোতোয়ালি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তারা তথ্য-প্রযুক্তির (সাইবার ট্র্যাকিং) সাহায্য নেন। নিখুঁত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয় প্রতারকের অবস্থান। এরপর শুক্রবার গভীর রাতে কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের বকুলতলার মোড় এলাকায় অতর্কিত অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় বিল্লালকে।

পুলিশের জালে ধরা পড়ার পর ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক এই ভুয়া পুলিশ অফিসারকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)