ক্রীড়া ডেস্ক
মাইকেল ওলিসের অসাধারণ নৈপুণ্য আর কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল ফ্রান্স। মঙ্গলবার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে দিদিয়ের দেশাম্পের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে ৩২ দলের পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করল 'লে ব্লুস'রা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পেতে ফ্রান্সকে কিছুটা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। প্রথমার্ধে সুইডিশ রক্ষণভাগ ভাঙতে মরিয়া এমবাপে ও ওলিসের দারুণ কিছু সমন্বয় দেখা যায়। রাবিও এবং বার্কোলা গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। আধা ঘণ্টা পার হতেই মাইকেল ওলিসে যেন পুরো ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। তার দুঃসাহসিক বাইসাইকেল-কিক অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে গেলে গোলবঞ্চিত হয় ফ্রান্স। তবে খেলার ধারার বিপরীতে ওলিসে এবং উসমান দেম্বেলের চমৎকার সেট-পিস থেকে এমবাপে প্রথম গোলটি করেন, যা বিরতির আগেই ফ্রান্সকে স্বস্তি দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ছন্দ ধরে রাখে ফ্রান্স। ওলিসের তৈরি করে দেওয়া এক নিখুঁত পাসে বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ম্যাচে ওলিসেকে এদিন যেন কোনোভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছিল না। বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার কেবল সুযোগ সৃষ্টিই নয়, নিজে গোল করার চেষ্টায় বারবার সুইডিশ রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছেন। তার শৈল্পিক ফুটবলের এক পর্যায়ে ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে আরও একটি নিখুঁত থ্রু-বল থেকে এমবাপে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে জয় নিশ্চিত হয়। ওলিসের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স যেন লিওনেল মেসির মতোই মঞ্চ কাঁপানো প্রভাব ফেলেছিল।
সুইডেনের বিপক্ষে এই সহজ জয়ের মাধ্যমে ফ্রান্স তাদের আক্রমণভাগের ধার আবারও প্রমাণ করল। দিদিয়ের দেশাম্পের কৌশল এবং ওলিসের সৃজনশীলতা যে দলের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন লে ব্লুসদের পরবর্তী লক্ষ্য নকআউট পর্বের লড়াই, যেখানে শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।