ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে অখ্যাত হলেও নেদারল্যান্ডস দলকে চ্যাম্পিয়ন বলছে ক্লেমেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
২০১০ বিশ্বকাপে কাচের বাক্সে রাখা পতাকা দেখে একের পর এক ম্যাচের নিখুঁত ফল জানিয়ে পুরো ফুটবল দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল ‘পল দ্য অক্টোপাস’। এরপর থেকে প্রতি বিশ্বকাপেই ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন—এবার ভবিষ্যদ্বাণীর ম্যাজিক দেখাবে কে? তবে এবার পলকে ছাপিয়ে খোদ মানুষের তৈরি এক ‘অক্টোপাস’ হাজির হয়েছে ফুটবল মহলে। না, কোনো জলজ প্রাণী নয়, এক জার্মান অর্থনীতিবিদ নিজের জটিল গাণিতিক মডেল দিয়ে তৈরি করেছেন এমন এক অদৃশ্য অক্টোপাস, যার চোখ এড়ানো অসম্ভব!
এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বিখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক ‘প্যানমিউর লিবারাম’-এর কৌশলবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট। ফুটবল দুনিয়ায় তার এই পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেলকে ডাকা হচ্ছে আধুনিক যুগের ‘অক্টোপাস’ নামে। আর কেনই বা ডাকা হবে না? এই মডেলের নিখুঁত পূর্বাভাস মিলিয়েই ২০১৪ সালে ট্রফি জেতে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স আর সবশেষ ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। টানা তিন বিশ্বকাপে যার কথাই ফলেছে শতভাগ, সেই ডিজিটাল অক্টোপাস এবার বেছে নিয়েছে সম্পূর্ণ নতুন এক চ্যাম্পিয়নকে। তার দাবি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ফাইনালে কাঁদিয়ে এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস!
বিবিসি জানাচ্ছে, ক্লেমেন্টের এই অদৃশ্য অক্টোপাস শুধু চ্যাম্পিয়ন নয়, পুরো টুর্নামেন্টের একটা রোমাঞ্চকর ছকও তৈরি করেছে। যেখানে রয়েছে একের পর এক বড় বড় ধাক্কা। এই মডেলের গণনা অনুযায়ী, হেক্সার স্বপ্ন নিয়ে আসা পরাশক্তি ব্রাজিলকে দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় করে মস্ত বড় অঘটন ঘটাবে এশিয়ান ব্লু সামুরাই—জাপান! অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হেরে বিদায় নেবে। আর পরাক্রমশালী ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও ফাইনালে যাওয়ার ঠিক আগের ধাপে তাদের স্বপ্ন ভাঙবে সেই রোনালদোদের কাছেই।
ক্লেমেন্টের মডেলের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ডাচরা গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউটে মরক্কো ও কানাডাকে হারাবে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স এবং সেমিফাইনালে স্পেনকে বধ করে ফাইনালে পৌঁছাবে নেদারল্যান্ডস। তবে এত বড় পূর্বাভাসের পরও ফুটবলপ্রেমীদের খুব বেশি বাজি ধরতে নিষেধ করেছেন ক্লেমেন্ট নিজেই। তার মতে, জনসংখ্যা, অর্থনীতি বা ফিফা র্যাঙ্কিং কিছুটা ধারণা দিলেও ম্যাচের অন্তত ৫০ শতাংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। মাঠের ভেতরে রেফারির একটা সিদ্ধান্ত কিংবা বল পোস্টে লেগে বাইরে যাওয়ার মতো অনিশ্চিত বিষয়গুলো আগে থেকে বলা কোনো অক্টোপাসের পক্ষেই সম্ভব নয়।
অবশ্য ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী শুনে তার অফিসের সহকর্মীরা কিন্তু অলরেডি নেদারল্যান্ডসের পক্ষে বাজি ধরে বসে আছেন! ক্লেমেন্ট মজার ছলে বলেছেন, ডাচরা আগে বাদ পড়লে পরদিন তাকে হয়তো বাসা থেকেই কাজ করতে হবে। আধুনিক যুগের এই অক্টোপাসের কথাই কি তবে সত্যি হতে চলেছে? এবার কি অধরা ট্রফিটা পাবে নেদারল্যান্ডস?
সূত্র: বিবিসি