নিজস্ব প্রতিবেদক
কেশবপুরে ঘেরের মাছ লুটে বাধা দেওয়ায় দুই নারীকে কুপিয়ে ও পানিতে চুবিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে যশোরের একটি আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কালিচরণপুর গ্রামের বরুণ বিশ্বাসের মেয়ে নিপা মণ্ডল বাদী হয়ে এ মামলা করেন। বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহম্মেদ ইমন অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী শেখ তাজ হোসেন তাজু।
মামলার আসামিরা হলেন—একই গ্রামের মৃত দুলাল বিশ্বাসের দুই ছেলে অসীত বিশ্বাস ও সঞ্জিত বিশ্বাস এবং অসীত বিশ্বাসের স্ত্রী লাবনী বেগম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে আসামিদের সঙ্গে নিপা মণ্ডলের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জন সুজিত বিশ্বাসের মাছের ঘেরে গিয়ে জাল ফেলে মাছ ধরা শুরু করেন। খবর পেয়ে নিপা ও তাঁর সতিন লিপিকা বিশ্বাস ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন।
এ সময় আসামি অসীত বিশ্বাস ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে লিপিকা বিশ্বাসকে গুরুতর জখম করেন। নিপা তাকে উদ্ধার করতে গেলে আসামিরা তাকে ধরে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা চালান। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়ে বাদী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
যৌতুক মামলায় যশোরের মণিরামপুরের আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তিকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা এ রায় প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মালেক মণিরামপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামের মকলেসুর রহমানের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৯ নভেম্বর হরিহরনগর গ্রামের জমশেদ সরদারের মেয়ে রেসমা খাতুনের সাথে আব্দুল মালেকের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১৫ বছর বয়সী ফেরদৌস নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সন্তান জন্মের পর থেকেই পরিবারের লোকজনের প্ররোচনায় আব্দুল মালেক স্ত্রীর কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে তিনি স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধর করে সন্তানসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়ে রেসমা খাতুন ২০২৫ সালের ২ মার্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।