ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ঘাস, খড়, ভুসি, ছোলা ও ভুট্টাসহ প্রচলিত দেশি পশুখাদ্যেই বেড়ে উঠছে মরু অঞ্চলের প্রাণী দুম্বা। বাড়তি কোনো আয়োজন ছাড়াই ঘরোয়া পরিবেশে প্রাণীটি পালন করে লাভের মুখ দেখছেন কুষ্টিয়ার খামারি রাকিবুল ইসলাম।
উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের রাকিবুল ২০২৪ সালের শুরুতে দুটি দুম্বা দিয়ে খামার শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি দুম্বা রয়েছে। এরই মধ্যে ছয়টি বড় দুম্বা ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।
রাকিবুল বলেন, “এক পরিচিত বড় ভাইয়ের কাছ থেকে নাটোরের একটি দুম্বা খামারের কথা জানতে পারি। সেখানে গিয়ে খামার দেখে এবং দুম্বা পালনের বিষয়ে জেনে একটি দুম্বা ও একটি দুম্বি কিনে বাড়িতে নিয়ে আসি। এরপর ঘরোয়া পরিবেশেই পালন শুরু করি।”
৩৬ বছর বয়সি এ খামারির ভাষ্য, দুম্বাকে আলাদা কোনো খাবার দিতে হয় না। দেশের অন্যান্য গবাদি পশুর মতোই ঘাস, খড়, ভুসি, ছোলা ও ভুট্টাসহ প্রচলিত খাবার দেওয়া হয়। সকালে ঘরের খাবার দেওয়ার পর বাইরে ঘাস খেতে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিকালে পানি ও সামান্য আনুষঙ্গিক খাবার দেওয়া হয়।
খামারের পরিচর্যাকারী সুজন হোসেন বলেন, “ছাগল, ভেড়া বা গাড়ল যে খাবার খায়, সেগুলোই দুম্বাকে দেওয়া হয়। খাবারের পরিমাণও খুব বেশি লাগে না। নিয়মিত ঘর পরিষ্কার রাখা ও মাসে দুইবার গোসল করালেই হয়।”
রাকিবুল বলেন, একটি দুম্বা বছরে দুইবার পর্যন্ত বাচ্চা দেয়। বাচ্চা ঘাস খাওয়া শুরু করলে বাজারে তার দাম প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর বড় দুম্বা আকার ও বয়সভেদে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় বলে তার দাবি।
বর্তমানে তার খামারে থাকা ১৫টি দুম্বার মধ্যে তিনটি অল্প কিছুদিনের মধ্যে বাচ্চা দেওয়ার কথা রয়েছে। দুম্বার শাবক দুধ খাওয়ার পরও মা দুম্বার দুধ সংগ্রহ করা যায় বলে জানান তিনি।
প্রায় ১০ বছর আগে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের পাশে নিজের বাড়ির সংলগ্ন জায়গায় মহিষ পালন শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৩ সালের মার্চে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে শরীরের বামপাশ অবশ হয়ে গেলে মহিষ পালন বন্ধ করে দিতে হয় তাকে।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ফের কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন রাকিবুল। শারীরিকভাবে তুলনামূলক কম পরিশ্রমের কাজ হিসেবে দুম্বা পালনের দিকে ঝুঁকেন তিনি।
রাকিবুল বলেন, “অসুস্থ হওয়ার পর খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। মহিষ বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছিলাম, তা দিয়ে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করায় পুঁজি হারানোর ভয়ও ছিল। পরে দুম্বা পালনের বিষয়ে জানতে পেরে নতুন করে শুরু করি।”
প্রতিবেশী মৌলানা ইমরান হোসেন বলেন, অসুস্থতার পরও রাকিবুল দমে যাননি। দুম্বা পালন করে তিনি নিজের আয়ের একটি পথ তৈরি করেছেন।
মিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, বাড়তি আয়োজন ছাড়াই ঘরোয়া পরিবেশে দুম্বা পালন করা সম্ভব। রাকিবুলের খামারটি তার একটি উদাহরণ।
তিনি বলেন, “বেকার তরুণরা স্থানীয়ভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করে স্বল্প পরিসরে এ ধরনের খামার গড়ে তুলতে পারেন।”(সংগৃহীত)