নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সৌর বিদ্যুতে (সোলার পাওয়ার) বিশেষ মনোনিবেশ করেছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার।
আজ শনিবার সকালে যশোর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক যৌথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে ‘১ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ এবং জিলা স্কুলের ১৩ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩০০ টাকা ব্যয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, অতীতে আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মূলত ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল নির্ভর ছিল। পরবর্তীতে তা গ্যাস এবং কয়লা নির্ভর হয়েছে, যার প্রতিটিই প্রকৃতির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। পরিবেশ রক্ষায় সরকার বর্তমান বাজেটে ইলেকট্রিক বাইকের ক্ষেত্রে শুল্ক শূন্য ঘোষণা করেছে। একই সাথে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বিশেষ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে বর্জ্য থেকেও আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে পাঠদানকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। এটিই আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল উদ্দেশ্য। পড়াশোনার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পেলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হবে।
শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, লেখাপড়া শেষ করে তোমাদের মেধা ও যোগ্যতা বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করতে হবে। কেউ যেন ভুল পথে পা না বাড়াও, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক বন্ধু অ্যাডভেঞ্চারের কথা বলে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জয়-পরাজয় থাকবেই। জীবন যেখানে আটকে যায়, সেখান থেকেই নতুন উদ্যমে পথ চলা শুরু করতে হবে। থেমে না থেকে নতুন শক্তিতে এগিয়ে যেতে হবে।
পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুকে আযম মুঃ আব্দুস ছালাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু এবং নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ প্রমুখ।
যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ১৩ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩০০ টাকা ব্যয়ে যশোর জিলা স্কুলের ১০ তলা বিশিষ্ট এই একাডেমিক ভবনটি নির্মিত হচ্ছে।