❒ হিন্দু, মুসলিম রেহাই নেই কারো
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: প্রতীকী
যশোর শহরের বেজপাড়া তালতলা মোড় এলাকায় চাঁদাবাজিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে একটি মহল। চাঁদা না দিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর এমনকি জীবননাশের হুমকি নিত্য ঘটনা হয়ে উঠেছে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ মাত্র দু’টি লোকের কাছে এলাকার শত শত স্থানীয় ও ভাড়া বাসায় বসবাসকারী পরিবার জিম্মি হয়ে পড়েছে।
বিগত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিনতাই চাঁদাবাজি এমনকি রক্তপাতের ঘটনা খুব স্বাভাবিক ছিল চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হোতা মো. শাহিনের কাছে। তালতলা কবরস্থান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাসকারী শাহিন তার সহযোগী রিন্টু খাঁ সহ ৪/৫ জনকে সাথে নিয়ে এসব অপকর্ম করতো। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের দৌরাত্ব কমে যায়। এলাকাবাসী তখন মোটামুটি শান্তিতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শাহিন দলের কেউ না হয়েও দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় আবারো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তোলে।
প্রতিনিয়ত শাহীন ও রিন্টু খাঁ এলাকাবাসীর কাছে অধিকাংশ সময় মোবাইলে ও কিছু সময় সরাসরি নানা অজুহাতে চাঁদা দাবি করেন। এই চাঁদার পরিমাণ পরিবার তথা দোকানের উপার্জনের উপর বিভিন্ন হারে নির্ধারণ হয়ে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দোকানি জানালেন, প্রত্যেক মাসে ওদের চাঁদা দিতে হয় দোকানে উপার্জন বা বসত বাড়িতে উপার্জনের উপর ভিত্তি করে ১ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তিনি বলেন ওদের চাঁদাবাজির যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। কি মুসলমান, আর কি হিন্দু এলাকায় বসবাস করতে হলে সকলকে সমানভাবে ওদেরকে চাঁদা দিতে হবে। না দিলে প্রাথমিকভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি পরে দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুরের হুমকি, এমনকি জীবননাশের হুমকি পর্যন্ত দিয়ে থাকে। ওদের মুখে কেউ তর্ক করলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে সেই ভয়ে কেউ মুখ খুলেন না।
শহরের চারখাম্বা মোড় থেকে বেজপাড়া তালতলা কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তার দু'পাশের বহু দোকানি এবং ওই এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে এলাকার স্থানীয় আরেকজন ব্যবসায়ীও জানালেন। মোটামুটি প্রভাবশালী ওই ব্যবসায়ী শাহিন-রিন্টুর এহেন চাঁদাবাজির কথা বারবার বলার পর এ প্রতিবেদকের প্রশ্নোত্তরে ব্যবসায়ী জানালেন প্রাণভয়ে কেউ থানায় জিডি বা পুলিশকে খবর দিতে ভয় পান। তিনি বলেন শাহিন-রিন্টু কোন দল না করলেও বর্তমান সরকারে থাকা বিএনপি'র নাম ভাঙ্গিয়ে এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চলছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এভাবে চাঁদাবাজি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করায় জেলা পর্যায়ে বিএনপি'র উচ্চপদস্থ নেতারা তাকে বিরত থাকার জন্য মৌখিকভাবে শাসিয়েছেন। কিন্তু তারা কোন কিছুতে কর্ণপাত করছে না।
এলাকার অপর একজন দোকানি জানালেন আমরা যারা মুদি ব্যবসা করি তারা তো আছেই, এছাড়া চা , গ্যাস সিলিন্ডার, বিকাশ, মিষ্টি, লন্ডি দোকানি কেউ বাদ যাচ্ছে না ওদের চাঁদাবাজির হাত থেকে। ভিন্ন ভিন্ন পার্বণে যেমন দুই ঈদ, বিভিন্ন দিবস এমনকি কোন অজুহাত ছাড়াও ওদের চাঁদা দিতে হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান মো. শাহিন এলাকার টগর কাজীর ছেলে কবরস্থান এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন এবং রিন্টু খাঁ রজব আলীর ছেলে ফায়ার সার্ভিস এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। তাদের সহযোগী আরো ৪-৫ জন এলাকার সোহেল'র (মাজহারুল ইসলাম সোহেল) দোকানে নিয়মিত আড্ডায় লিপ্ত হন। সোহেল বেজপাড়া মাহফুজ সড়কের বাসিন্দা কাজী সদরুল ইসলামের ছেলে।
নির্ভরশীল অপর একটি সুত্র জানিয়েছে, সোহেলই এসব চাঁদাবাজির পিছনে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন। তিনি নিজে পাড়ার শান্তিরক্ষা কমিটির নামে বাড়ি বাড়ি চাঁদা আনতে যান । সে সুবাদে মোবাইলে এ কাজের নেতৃত্ব দেন।
এ ধরনের চাঁদাবাজি থেকে পরিত্রাণ পেতে এলাকাবাসী পুলিশ প্রশাসন তথা সরকারি দলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ধ্রুব/এস.আই