Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

শহরের চারদিক থেকে মুড়লীতে আছড়ে পড়ে জনস্রোত

❒ এক দফার আগে সাত দফা মেনে নিন: যশোরে ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শনিবার, ৩১ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
আপডেট : শনিবার, ৩১ অক্টোবর,২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
শহরের চারদিক থেকে মুড়লীতে আছড়ে পড়ে জনস্রোত

যশোরের মুড়লীর মোড়ে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী ১১ দলীয় জোটের ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী লংমার্চকে কেন্দ্র করে যশোর শহরের মুড়লী মোড়ে আয়োজিত পথসভাটি শেষ পর্যন্ত এক বিশাল জনসভায় রূপ নেয়। লংমার্চের মূল গাড়িবহর পৌঁছানোর বহু আগেই দুপুর থেকে যশোর শহরের প্রবেশমুখ মুড়লী মোড় ও তার আশপাশের এলাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে লংমার্চের বহর অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে পুরো এলাকা মুহুর্মুহু শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা শান্তিকামী ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা চাই সংসদে বসেই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্নসহ আমাদের উত্থাপিত ৭ দফা দাবির যৌক্তিক সমাধান হোক। সরকারকে আমরা সেই সময়টুকু দিতে চাই। কিন্তু সংসদ অধিবেশনে যদি এই সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে আন্দোলন রাজপথে গড়াবে। তখন আজকের এই ৭ দফা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের এক দফায় রূপান্তরিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। জনগণের এই রায়কে উপেক্ষা করে কোনো চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না। আগামী সংসদ অধিবেশনের আগেই সরকারকে এই ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় ১১ দলীয় জোট রাজপথে ১ দফার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।”

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে লংমার্চে যে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রমাণ করে মানুষ বর্তমান সরকারের নীতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। জনগণ এই অপশাসনের কবল থেকে মুক্তি চায়।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মাওলানা মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জনগণের রায়কে অস্বীকার করে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারেনি, এই সরকারও পারবে না। গণভোটকে উপেক্ষা করার পরিণতি ভালো হবে না। সময় থাকতে জনদাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “কেবল ক্ষমতার রদবদল বা নামমাত্র সংস্কার দিয়ে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণ সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও ব্যাংক খাতসহ রাষ্ট্রের মূল কাঠামোগুলোর আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই।”

মুড়লী মোড়ের মূল জনসমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমীরের নেতৃত্বে লংমার্চের বহরটি শহরের ভেতরের প্রধান সড়ক দিয়ে অগ্রসর হয়। গাড়িবহরটি মণিহার, বারান্দীপাড়া, শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়, নতুন উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি, চূড়ামনকাটি ও সাতমাইল বাজার অতিক্রম করে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। লংমার্চের পুরো যাত্রাপথে যশোর শহরের রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও তরুণ ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে বহরটিকে অভূতপূর্ব ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এর আগে লংমার্চের বহরটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিল্পশহর নওয়াপাড়ায় পৌঁছালে সেখানেও হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সময় আছে, সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিন। সময় যদি চলে যায়, তাহলে কেউ আর আপনাদের দিকে ফিরে তাকাবে না।’

বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণ কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, তাঁদের মধ্যে কারা এসব কার্ড পেয়েছেন। এ সময় কেউ হাত না তোলায় তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি বাংলাদেশের জনগণ না?’

তিনি বলেন, এসব কার্ড জনগণের অর্থে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে সাধারণ মানুষ কেন তা পাচ্ছে না, কার্ডগুলো কোথায় যাচ্ছে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। কার্ড বিতরণ নিয়ে অনিয়মের ইঙ্গিত করে রাতের বেলা পুকুরপাড়ে কার্ড বিতরণের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

বক্তব্যের শুরুতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য যশোরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মানবিকতা, দেশ, জনগণ ও এই মাটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অপেক্ষা করেছেন। প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্য শেষে তিনি কুষ্টিয়ার উদ্দেশে লংমার্চের পরবর্তী যাত্রার কথা উল্লেখ করেন।

যশোর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি-র সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মাওলানা মামুনুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ড. হামিদুর রহমান আজাদ, এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন, এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ মোস্তাফিজ, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কেন্দ্রীয় নেতা রাজ্জাকুল ইসলাম রাজ্জাক, খেলাফত মজলিসের কাজী আব্দুল আলী, নেজামে ইসলাম পার্টির সদস্য মাওলানা শহীদুল ইসলাম ইনসাফী, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর কাজী আবদুর রহিম, ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ, চাকসুর ভিপি প্রকৌশলী ইব্রাহিম রনি, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান, ঝিকরগাছা-চৌগাছা আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, মণিরামপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. গাজী এনামুল হক, কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলী, জাগপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, যশোর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. নুরুজ্জামান , বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলার সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যশোরের সভাপতি মাওলানা বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলার সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, মো. মনিরুল ইসলাম, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি ভিপি আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যশোরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাসুম বিল্লাহ , বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলার কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজা, এনসিপির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান আজাদ, যশোর জেলা এলডিপির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রিপন, যশোর জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক ড. মো. ইয়ামিনুর রহমান, এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম মিলন, যশোর জেলা বিডিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর সদর উপজেলার আমীর অধ্যাপক আশরাফ আলী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর শহরের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যশোরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি রাশেদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির যশোর শহর শাখার সভাপতি ওবাইদুল্লাহ হুসাইন , বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির যশোর জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি মিনারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির যশোর জেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন, যশোর জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক খান মিফতাহুল অমিত প্রমুখ।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)