সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

যশোরে 'অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ে' হিজাব নিয়ে তোলপাড়

❒ তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

ধ্রুব নিউজ ধ্রুব নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর,২০২৫, ০১:১৭ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর,২০২৫, ০১:২৩ পিএম
যশোরে 'অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ে' হিজাব নিয়ে তোলপাড়

❒ ‘হিজাব’ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন অভিভাবক রেজা সিদ্দকী ছবি: ধ্রুব নিউজ

যশোরের উদীচী পরিচালিত ‘অক্ষর শিশু শিক্ষালয়’-এ হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে জটিলতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হিজাব পরিহিত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনুমতি না দেওয়ার জেরে একজন অভিভাবক তার সন্তানকে ভর্তি না করিয়ে ফিরে এসেছেন এবং ক্ষোভে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক। এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষও ওই অভিভাবকের সাথে সমঝতার চেষ্টা করেছে।

সম্প্রতি রেজা সিদ্দিকী নামের এক অভিভাবক তার মেয়ে জুয়াইরিয়াকে ‘অক্ষর শিশু শিক্ষালয়’-এ ভর্তি করাতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে হিজাব পরে ক্লাস করার অনুমতি নেই। হিজাব ইস্যুতে ভর্তি না হওয়ায় তিনি ফরমের ৩শ টাকা ফেরত চাইলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে ওই অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রেজা সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, ভর্তির আগে তাদের জানানো হয়নি যে হিজাব পরা যাবে না। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুধু আমার ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং একটি সামাজিক বাস্তবতা। অনেকেই আমাকে জানিয়েছেন তারাও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।’

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল ২৪ নভেম্বর (সোমবার) বিকেলে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন ওই অভিভাবক ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। বৈঠকে অভিভাবক পক্ষের পক্ষ থেকে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়: ১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেটে ‘এখানে হিজাব ব্যবহার নিষিদ্ধ’ মর্মে ব্যানার টানাতে হবে। ২. ভর্তি ফর্ম ও বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে। ৩. ভর্তি ফর্মে ছবির ঘরে ‘হিজাববিহীন ছবি বাধ্যতামূলক’ লিখতে হবে। ৪. অথবা, হিজাব সংক্রান্ত এই নিষেধাজ্ঞা বা অলিখিত আইন বাতিল করতে হবে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তাদের পরিষদে আলোচনা আলোচনা করবেন বলে অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছেন।

স্কুলটির অধ্যক্ষ প্রফেসর (অব.) শৈলেন্দ্র কুমার রায় (যিনি সরকারি এমএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন) জানান, উদীচী পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে প্লে থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। তাদের একটি নির্দিষ্ট ড্রেসকোড রয়েছে এবং হিজাব সেই ড্রেসকোডের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উদীচী যশোর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘আমরা শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় করতে চাই। এখানে কোনো ধর্মীয় ক্লাস হয় না। হিজাব আমাদের ড্রেসকোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই শ্রেণিকক্ষে এটি পরা যাবে না। অভিভাবকরা জেনেই এখানে ভর্তি করান।’

এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল আলম জানান, শিশুদের মানসিক বিকাশ ও চরিত্র গঠনে ধর্মীয় জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং এটি রাষ্ট্রীয় পাঠ্যক্রমের অংশ। যদিও শিশু থেকে ২য় শ্রেণি পর্যন্ত ধর্মীয় কোন পাঠ্যবই নেই তবুও সব স্কুলে ধর্ম ক্লাস হয়।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারিভাবে হিজাব পরায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে। হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া রাষ্ট্রের আইন অমান্য করার শামিল। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমন বিধিনিষেধ জারি করলে তদন্ত সাপেক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (শিক্ষা ও আইসিটি) মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে অভিভাকরা শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে এবং বিষয়টি প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। আজ ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। রেজা সিদ্দিকী জানান, তিনি চান একটি আদর্শিক যশোর হিসেবে গড়ে উঠুক, যেখানে এমন হিজাব সংক্রান্ত জটিলতা থাকবে না।

স্মারকলিপিতে রেজা সিদ্দিকী ছাড়াও সালাম খাতুন, ফেরদৌস পলাশ, মহিদুল ইসলাম, হাসিবুর রহমান সম্রাট, মো. রাসেল, খালিদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ সাক্ষর করেন।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)