❒ তিন দিনব্যাপী প্রকাশনা উৎসব শুরু
সাইফুল ইসলাম
উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইসলামী ছাত্রশিবির যশোর শহর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উবাইদুল্লাহ হুছাইন ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম এম) কলেজ চত্বরে আজ যেন এক ভিন্নরকম প্রাণের ছোঁয়া লেগেছে। পহেলা বৈশাখ তথা নববর্ষকে সামনে রেখে বই, ডায়েরি আর বর্ণিল ক্যালেন্ডারের সমারোহে সেজেছে কলেজ প্রাঙ্গণ। ‘চেতনায় চিরঞ্জীব’ স্মৃতিস্তম্ভের কোল ঘেঁষে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এম এম কলেজ শাখার তিন দিনব্যাপী ‘নববর্ষ প্রকাশনা উৎসব’। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতে আর সুস্থ সংস্কৃতির প্রসারে এই আয়োজনটি এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আজ রোববার সকালে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইসলামী ছাত্রশিবির যশোর শহর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উবাইদুল্লাহ হুছাইন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সঠিক ইতিহাসের চর্চার কোনো বিকল্প নেই। বছরের শুরুতে নতুন উদ্দীপনায় দেশকে জানতে এবং সুস্থ সংস্কৃতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংগঠনের আদর্শ ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে সাধারণ মহলে যদি কোনো অস্পষ্টতা থাকে, তবে সরাসরি স্টলে এসে প্রকাশনাগুলো দেখে সেই ধারণা স্বচ্ছ করার সুযোগ রয়েছে সবার জন্য।
উৎসব প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, কেবল প্রদর্শনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই এই আয়োজন। ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আলাদাভাবে রাখা হয়েছে ‘সমর্থক ফোরাম’ ও ‘স্টাডি জোন’। সেখানে বসে শিক্ষার্থীরা নিরিবিলিতে বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
কলেজ শাখার সভাপতি রাকিব হোসেন জানান, ছাত্রশিবির কেবল ছাত্র রাজনীতি নয়, বরং দেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ ও দক্ষ নাগরিক তৈরির একটি কারিগর হিসেবে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, “গতানুগতিক ধারার বাইরে ছাত্রশিবিরের সৌন্দর্য ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরাই এই প্রকাশনা উৎসবের মূল লক্ষ্য।
উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে শাখার সেক্রেটারি আনিছুর রহমান জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত স্টল খোলা থাকবে। স্টলে রয়েছে ৬০ থেকে ৭০ ধরনের আকর্ষণীয় আইটেম, যার মধ্যে চমৎকার গ্রাফিক্সের ডেস্ক ক্যালেন্ডার, ডায়েরি ও তিন পাতার দেওয়াল ক্যালেন্ডার, বিজ্ঞান, গণিত এবং বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত বিশেষ কিছু বই এবং নববর্ষের উপহার হিসেবে বন্ধুদের দেওয়ার মতো অসংখ্য নৈতিক ও শিক্ষামূলক উপকরণ।
আয়োজনের প্রথম দিনেই সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিজ্ঞান ও ইতিহাসের বইগুলোর প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। অনেককে দেখা গেছে স্মৃতিস্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে বইয়ের পাতা উল্টাতে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর শহর শাখার অফিস ও দাওয়াহ সম্পাদক আবু হাসানসহ এম এম কলেজ শাখার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
আয়োজকরা আশা করছেন, ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই উৎসবের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সুস্থ জ্ঞানচর্চার একটি নতুন ধারা তৈরি হবে, যা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।